প্যারাডক্সিকাল সাদিয়া আপু লেখকঃশাওন সিকদার পর্বঃ১
প্যারাডক্সিকাল সাদিয়া আপু
লেখকঃশাওন সিকদার
পর্বঃ১
আকাশটা রক্তিম লাল বর্ণ ধারন করেছে।ভুল বললাম,আকাশ কীভাবে রক্তিম হবে?সেটা তো ভালোবাসার প্রতীক সর্বদা নীল থাকে।আবারো ভুল বললাম,আকাশ তো সবসময় নীল থাকে না,কখনো কখনো হালকা ধুসর হয়ে যায়।বর্ণ পরিবর্তন করে।আর কি কোন বর্ণ ধারন করে,হ্যা মাঝে মাঝে ধবধবে দুধের মত সাদা!একদম নিষ্পাপ বাচ্চার মত।আবার মাঝে মাঝে কালোও হয়।তখন আর এই আকাশটা নিস্পাপ বাচ্চা থাকে না।কালবৈশাখীর মত দুর্যোগ বয়ে নিয়ে আসে।একবার আশা একবার নিরাশা নিয়ে আশে এই আকাশ। কখন যে আকাশটা কেমন হবে তা বুঝা সাধারন মানুষের সাধ্যের বাহিরে,ঠিক যেমন টা সাদমানের জন্য সাদিয়া আপুকে বুঝা।কত বছর বয়স হবে মেয়েটার?২২ নাকি ২৩?হবে মাঝামাঝি কোন একটা।কিন্ত এই বয়সে একটা মেয়ে কীভাবে এতটা রহস্যময়ী হয় সেটা সাদমানের চিন্তা শক্তির বাহিরে।দোতলা বাড়ির ছাদের এক কোনে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে এসবই ভাবতেছিল সাদমান।একটা দমকা হাওয়া এসে সাদমানের সেই ভাবনার ব্যাঘাত ঘটালো।বসন্তের এই বাতাসটাও অনেকটা সাদিয়া আপুর মত।কখন কোথায় কীভাবে যে এসে যায় তা বোঝার সাধ্য নেই।।সাদমান আবার তাকাল আকাশে দিকে।আকাশটা আরেকটু রক্তিম বর্ণ ধারন করেছে।সময় যত বাড়ছে রক্তিম আভাটাও সমান তালে বাড়ছে।আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে এভাবে রক্তিম আভা বাড়ার কারনে আকাশটা একসময় টকটকে লাল হয়ে যাওয়ার কথা,কিন্ত শেষ পর্যন্ত আকাশটা লাল না হয়ে কালো হয়ে যায়।রহস্য সবই রহস্য,কিন্ত সাদিয়া আপুর চেয়ে যে বড় রহস্য না সেটা একেবারে নিশ্চিত সাদমান।কয়েকটা শালিক উড়ে গেল মাথার উপর দিয়ে।সারাদিনের ক্লান্তিকর পরিশ্রম শেষে হয়ত সন্তানদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে ঘরে ফিরছে।সন্তানরাও হয়তো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মায়ের ফিরে জন্য।মায়েরা কি নিয়ে আসছে তাদের জন্য?পেটের ভেতরের ছুচোটাকে নিবারনের অধীর অপেক্ষা।কি হবে শালিক গুলো নীড়ে পৌছানোর পর?শালিক গুলো পাবে তাদের সারাদিনের পরিশ্রমের সার্থকতা আর অবসান হবে কতগুলো নিস্পাপ প্রানের অধীর অপেক্ষা।ঠোটের এককোনে হালকা হাসি ফুটে উঠলো সাদমানের।আবারও আশ্চর্য হলো সাদমান।সাধারন মানুষ এখানে আশ্চর্য হওয়ার কিছু খুজে পাবে না।কিন্ত সাদমানের কাছে আশ্চর্য হওয়ার মত একটা কারন ঠিকই ধরা দিল।পাখিদের সারাদিনের পরিশ্রম এবং দিনশেষে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সার্থকতা একটা আরেকটাকে প্রশমিত করছে।এসব আবেগীও ব্যাপারেও নিউটনের তৃতীয় সুত্রের আনাগোনা।বাচ্চাগুলোর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার।সারাদিনের অপেক্ষা আর দিনশেষে পেটের ছুচোগুলো নিবারন,এখানেও একটা আরেকটাকে প্রশমিত করছে।প্রতেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে।নিউটনের এই তৃতীয় সূত্রটি আবেগীয় ব্যাপারেও কতটা কার্যকরী ভেবে একটু আশ্চর্যই হলো সাদমান।ঠোটের হাসির রেখাটা আরেকটু বড় হলো।আবার সেই দমকা হাওয়া।কিন্ত এবারের হাওয়া টা একটু ভিন্ন ধরনের,এটা বসন্তের হাওয়া না।এই হাওয়ার সাথে পূর্ব পরিচিত সাদমান।আরেকটু নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাদমান তার হার্টবিটের দিকে লক্ষ করলো।হ্যা সাদমানের হার্টবিটও বেড়ে গেছে।এবার সাদমান একদম নিশ্চিত।নিশ্চয়ই সে রহস্যময়ী সাদমানের আশেপাশে আছে।
।
কিরে ঢাকা ভার্সিটিতে নাকি চান্স পেলি?একবার খবরও দিলিনা!এতটা পর ভাবিস আমায়?
।
সাদমান এবার পাশে তাকালো।৪ ফুটের চেয়ে একটু বেশি লম্বা হবে সাদিয়া আপু কিন্ত দেহের রং ধবধবে সাদা।হালকা পাতলা গড়নের শরীর।কিন্ত প্রতিটি অঙ্গ যেন শিল্পীর তুলি দিয়ে নিখুত ভাবে আকা।ঠোটের কোনে লেগে আছে এক চিলতে হাসি।এই হাসিটাই সাদমানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।কিন্ত বয়সে বড় হওয়ায় কখনো কিছু বলার সাহস করেনি সাদমান।কিন্ত সে স্পষ্ট বুঝতে পারে সাদিয়া আপুও তাকে চায়।তাদের এই চাওয়া পাওয়া তাদের চোখের ভাষায়ই সিমাবদ্ধ থাকে।কখনো প্রকাশিত হয় না।বরাবরের মত চশমাটা চোখে পড়ে আছে সাদিয়া আপু।কিন্ত আশ্চর্যজনক বিষয় এটা যে সাদিয়া আপুর চোখে কোন সমস্যা নাই।পায়ের দিকে চোখ গেল সাদমানের।সাথে আবারো একচিলতে হাসি ফুটে উঠলো সাদমানের মুখে।সাদিয়া আপুকে দেখলে সাদমানের চোখ যায় আগে সাদিয়া আপুর পায়ের দিকে।সাদিয়া আপুও সেটা বুঝতে পারে।তাইতো বরাবরের মত এবারো সুন্দর করে পায়েল পরে এসেছে।দুধে আলতা পায়ে সুন্দর করে পড়া পায়েলের গোলক ধাধায় আটকে গেল সাদমান।ব্যাপারটা চোখ এড়ায় নি সাদিয়া আপুর।সাদিয়া আপু হাসির রেখা টা আরেকটু বড় হয়ে গেল।
।
হালকা কাশি দিয়ে আবার বলে উঠলেন
।
কিরে কই গেলি?
।
সাদিয়া আপুর কথায় হুসে ফিরলো সাদমান,,
ও ও হ্যা কি যেন বলছিলে?
।
বলি ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেলি আমাকে একটু জানানোর প্রয়জোন মনে করলি না?
।
তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো সাদমানের মুখে।তবে সে হাসিটা সাদিয়া আপুর প্রতি নয়।নিজের প্রতি।কারন সে জানে তার যা রেজাল্ট তা দিয়ে ঢাকা ভার্সিটি তো দূরের কথা কোন সাধারন সাত কলেজেও চান্স পাবে না।কিন্ত সেই রেজাল্ট দিয়েই সে ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেল।সবই সাদিয়া আপুর কান্ড।বড় বড় নেতারা যেখানে ঢাকা ভার্সিটিতে একটা সিট পেতে হিমসিম খায় সেখানে সাধারন একটা মেয়ে কীভাবে আরেক জনের জন্য এত সহজে একটা সিট যোগার করলো সেটাও ভাবার বিষয় সাদমানের।
।
কীভাবে করলে এটা আপু?
।
সাদমান সাদিয়া আপুকে অবাক চোখে জিজ্ঞেস করলো।তার চোখে মুখে ভির করেছে রাজ্যের সব বিশ্ময়।নটরডেমে বিনা পরীক্ষায় চান্স পেয়েছিল সাদমান,সেটা সামান্য কলেজ,মানা যায়।কিন্ত ঢাকা ভার্সিটির মত যায়গায় কীভাবে এটা সম্ভব করলো সাদিয়া আপু??হ্যা,সাদমান নটরডেমেও পড়েছিল,বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বনামধন্য কলেজের নাম নটরডেম।সাদমানের ইচ্ছা ছিল নটরডেমে পড়ার,কিন্ত তার রেজাল্টের অবস্থা এতটাই বাজে ছিল যে সে কখনোই ওইখানে পরীক্ষা দিতে পারতো না।তবুও সপ্ন বলে কথা,এত সহযে ভুলবার নয়,দিনরাত চোখ লাল করে ঘরের কোনে বসে থাকত সাদমান।তখনও এই সাদিয়া আপুই তার নটর ডেমে পড়ার ব্যাবস্থা করেছিল।কিন্ত কীভাবে যে করেছে সেটা সাদিয়া আপুই ভালো জানে।সাদমান এই দুই বছরে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েছে তবুও সে কীভাবে চান্স পেল সেখানে তার কোন সূত্র খুজে পায় নি।অবশ্য সে খুজে পায় নি নাকি তাকে খুজার সুযোগ দেওয়া হয় নি সেটাও ভাবার বিষয়।
।
কিরে আবার কই হারালি?
।
সাদিয়া আপুর কথায় হুস ফিরলো সাদমানের,কাপা কাপা কন্ঠে আবার জিজ্ঞেস করলো সাদমান,
।
এটা কীভাবে করলে আপু?
।
হা হা হা,আমি কি করলাম?বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলি তুই,আর জিজ্ঞেস করিস আমি কীভাবে করলাম,হা হা হা?
।
আবারও সেই ভুবন ভুলানো হাসি,সাদমান এই ভুবন ভুলানো হাসি দেখেই প্রেমে পরে গেছেল সাদিয়া আপুর।
।
আপু তুমি বুঝতে পারছো ব্যাপারটা কত সিরিয়াস??একবার যদি কেউ জানতে পারে আমি স্ক্যাম করে চান্স পেয়েছি,তাহলে আমায় ভার্সিটি থেকে তো রাস্টিকেট করবেই সাথে জেলও হতে পারে।আমার পুরো ফিউচার নষ্ট হয়ে যাবে।
।
মুচকি হাসি দিল সাদিয়া আপু।তারপর একেবারে কাছে চলে আসলো সাদমানের।যতটা কাছে আসলে একজন আরেকজনের নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পারে।উচ্চতায় সাদিয়া আপু সাদমানের একটু ছোট।তাই সাদমানের পায়ের পাতার ভর দিয়ে দাড়াল।একটু উচু হয়ে হাত দুটো সাদমানের কাধে রাখল।তারপর মুখের কাছে মুখটা নিয়ে গেল।সাদিয়া আপুর গরম নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে সাদমান।
#Story

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন