গল্পঃশেষ রাতের বাসে লেখকঃশাওন সিকদার পর্বঃ১
গল্পঃশেষ রাতের বাসে
লেখকঃশাওন সিকদার
পর্বঃঃ১
রাত প্রায় পোনে এগারোটা বাজে!আকাশ টা হালকা মেঘাচ্ছন্ন!বাইরে স্নিগ্ধ বাতাস বইছে!একটু পর হয়তো হালকা ঝিরঝিরে বৃৃষ্টি শুরু হবে!এই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর হালকা স্নিগ্ধ বাতাসের মধ্যে হু হু করে চলছে চড় ফকিরা টু ঢাকার বাস আবুল কাশেম পরিবহন!বাসের গতির কারনে হালকা বাতাসটাই জোরে লাগছে নাইমের মুখে!তবুও নাঈম নির্বিকার ভঙ্গিতে বসে আছে জানালার পাশের সিট টায়!নিজের অগোচোরেই হাত দিয়ে চেক করে নিল পাঞ্জাবীটা ঠিক আছে কিনা!বলা তো যায় না কোন মেয়ে কখন কুনজর দিয়ে বসে! গত কয়েকদিন ধরেই পত্রিকায় ঘন ঘন পুরুষ ধর্ষনের ঘটনা দেখা যাচ্ছে তাই নাইমের মা তাকে প্রায় জোর করেই গোল পাঞ্জাবী পরিয়ে দিয়েছে, যদিও নাঈম সচরাচর পাঞ্জাবি পরেই বের হয়!আসলে কাল তাকে পাত্রীপক্ষ দেখতে আসবে!পাত্রী নাকি বিসিএস ক্যাডার!তার মামি তার জন্য এ সম্বন্ধ টা এনেছে!কাল নাকি পাত্রী তার মামির বাসায় আসবে তাকে দেখতে!এখন কার যুগে তো বিসিএস ক্যাডার হলো সোনার হরিন!তাই নাঈমের মা ঝুকি থাকা সত্তেও নাঈমকে রাতের বাসেই পাঠিয়ে দেন ঢাকার উদ্দেশ্যে! যদিও নাঈমের মা আসতে চাইছিল কিন্ত অফিসে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকায় আসতে পারেন নি!আর নাঈমের বাবা সারাদিন রান্না বান্না করে ক্লান্ত হয়ে পরেছে🤣!ইদানিং তার শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে😉, তাই সেও আসতে পারেনি!
।
!আচ্ছা মেয়েটা কেমন হবে কালো নাকি সাদা!নাঈমের দিকে কীভাবে তাকাবে..?একটু লুচু টাইপের হবে নাকি ভদ্র টাইপের..?আচ্ছা মেয়েটা নাঈমের দিকে তাকিয়ে থাকবে নাঈমও মেয়েটার দিকে চুপি চুপি করে তাকাবে হঠাৎই মেয়েটার সাথে নাঈমের চোখাচুখি হয়ে যাবে...নাঈম ইষৎ লজ্জা পেয়ে লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া মুখখানি তারাতারি নিচে নামাবে....
।
আউউউউউউউউউউউউউউউচ
।
(সামনের ছিটাটার সাথে বারি খেয়ে মাথা প্রায় ফেটে যাওয়ার উপক্রম!কল্পনায় নাইম সত্যি সত্যিই মাথা নিচে নামাচ্ছিল।তারপর আর কী,কল্পনায় নাঈম লজ্জা পেয়ে তারাতারি মাথা নামাতে গিয়ে বাস্তবে সামনের ছিটাটার সাথে প্রচন্ড জোরে মাথায় এমন জোরে একটা বারি খেল যে বাস ভর্তি লোকের সামনে চিতকার দিয়ে উঠলো!বারি খেয়ে নাঈমের হুস ফিরলো!নিজের কথা চিন্তা করতেই লজ্জা পেল!ঠোটের কোনায় হালকা হাসির আভা ফুটে উঠলো!ছি কিসব আজগুবি চিন্তা করছিল ও!লজ্জায় ওর মুখখানি পাকা টমেটোর মত লাল বর্ন ধারন করেছে!লজ্জায় নিজের হাত দিয়ে মুখ দুটি ডেকে ফেলল!)
।
এই যে ভাই মুখ ডেকে রাখছেন কেন...?ভাড়া দেন!
(টিকেট কাটতে কাটতে নাইমের কাছে ভাড়া চাইলো হেলপার মেয়েটি!)
!
হেলপার মেয়েটির ডাকে নাঈম এবার পুরোপুরি বাস্তবে ফিরে এল!ধুর মা একটু শান্তি মত কল্পনাও করতে দিবে না!আজব পাব্লিক তোহ!বিরবির করতে নাইম পাঞ্জাবি টা একটু উপরে উঠালো পকেট থেকে টাকা নেওয়ার জন্য!সাথে সাথে হেল্পার মেয়েটির তীক্ষ্ন নজর গেল নাইমের পাঞ্জাবির ফাকে!চোখ দুটির যেন অবিরাম চেস্টা করছে কিছু একটা দেখার জন্য!ব্যাপারটা নাঈমের চোখ এড়ালো না...নাঈম ব্যাপারটা লক্ষ করার সাথে সাথে তার পাঞ্জাবি টা নামিয়ে ফেললো!ঘটনার অকাস্মিকয়ায় হেল্পার মেয়েটা একদম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল!
।
কি হল এভাবে কি দেখছেন...?
ক ক কই না কিছুই তো দেখছি না!আমি তো শুধু ভাড়া নিতে আসলাম!
এই যে আপু শুনেন আমাকে একা দেখে অবলা পুরুষ ভাববেন না হু আমি কিন্ত ক্যারাটি যানি,,,🤨🤨!
তাই নাকি😁😁!
।
ছি! কি নোংরা ভাবে হাসছে মেয়েটি!একেবারে দাতের বত্রিশ পাটি একদম বের করে হাসছে!হাসি দেখেই নাঈমের কেমন যেন গুলিয়ে আসছে!ঠোট দুটো কি কালো রে বাবা!এই মেয়ে নিশ্চয় নেশাটেশা করে!আর মেয়েদের কি, আজকাল তো প্রায় সব মেয়েরাই নেশা করে!নেশা করে না এমন মেয়ের সংখ্যা হাতে গুনে বলে দেওয়া যাবে!
।
ওই কি হলো আপনার ,কী ভাবছেন.? ভাড়াটা দিবেন তো...
আপনি ওইদিক থেকে ভাড়ানিয়ে আসুন,,আমি পরে দিব😖😖
আচ্ছা🤭🤭
।
মেয়েটা চলে গেল!নাঈম যেন হাফ ছেড়ে বাচলো...বাবারে বাবা কী লুচু মাইয়া,,,,কেমন করে তাকায়,যেন গিলে খেয়ে ফেলবে!তারপর নাঈম অতি সতর্কতার সহিত ভাড়াটা বের করলো,,চারদিকে একবার চোখবুলিয়ে নিলো এটা দেখার জন্য যে কোন মেয়ে তাকিয়ে আছে কিনা!কিন্ত চারদিকে তাকিয়ে নাঈমের চোখ কপালে উঠে গেল!
।
একি এ আমি কী দেখতেছি...?🥶🥶ঢাকা পৌছাতে এখনো প্রায় আধা ঘন্ট বাকি আর বাসে এখন শুধু মাত্র তিনজন যাত্রী আছে...একজন নাঈম নিজে আর বাকি দুজন মনে হয় স্ত্রী-স্বামী!
।
নাঈমের কলিজা প্রায় শুকিয়ে এল!এখন কী হবে!ঢাকা পৌছাতে এখনো আধা ঘন্টা বাকি আছে.. কিন্ত এর মাঝে যদি উনারা নেমে যায় তাহলে কী হবে..হেল্পার মেয়েটা যে পরিমান লুচু ওর বিশ্বাস নেই!না না একা বাসে থাকা যাবে না!উনারা নেমে গেলে উনাদের সাথে নেমে যেতে হবে!কিন্ত তাহলে ঢাকা যাব কেমনে...ধূর যা হবার হবে..নিজের ইজ্জত এর চেয়ে বড় কিছু আছে নাকি,,,
।
একটু পর হেল্পার মেয়েটা আবার আসলো,,,
।
কি এবার ভাড়া দেওয়া যাবে..?🤗🤗
হুম এই নিন!
বলেই নাঈম একটা এক হাজার টাকার নোট এগিয়ে দিল!
যাবেন কই...!😎😎
আজব তোহ..!ঢাকার বাসে চড়ে কেউ কক্সবাজার যায় নাকি...?😤😤ঢাকাই যাব...
আরে রাগেন কেন..?জাস্ট এমনিই জিজ্ঞেস করছি...🤭🤭
ধুর এখন বাকি টাকা দিয়ে এখান থেকে যান তো...
আসোলে ভাই একহাজার টাকা ভাংতি নেই,,,!আপনি চাইলে ঢাকায় গিয়ে তারপর ভাংতি করে দিতে পারি😘😘🤪
।
আবার সেই বিচ্ছিরি হাসি!নাঈমের আবার গুলিয়ে আসছে!
।
আচ্ছা ঠিক আছে ঢাকা গিয়েই ভাংতি করে দিয়েন এখন এখন থেকে যান,,,,
।
দেখতে দেখতে চলে গেল আরো বিশ মিনিটি নাঈম মগ্ন ছিল তার ভাবনায়!এমন সময় হঠাৎ বাস টা থেমে গেল!অকাস্মিক ভাবে বাস টা থেমে যাওয়ায় নাঈম আবার বারি খেল সামনের ছিটের সাথে!কিন্ত এবার আর আগের মত জোরে বারি খায় নি!নাঈম চারদিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল কি হয়েছে...কিন্ত যা হলো তার জন্য নাঈম একদম প্রস্তত ছিল না!
বাসে বাকি থাকা যাত্রী দুজন নেমে যাচ্ছে..এখন কী হবে,,ঢাকা পৌছাতে তো এখনো দশ মিনিট বাকি,,,
.
চলবে।,,,,
।
পরবর্তী পর্ব এখানে পোস্ট হবে।
https://www.facebook.com/groups/236198894472587

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন