গল্পঃমিথ্যা অপবাদ পার্টঃ২ লেখকঃশাওন শিকদার

 মিথ্যা_আপবাদ

পার্টঃ২
লেখকঃশাওন শিকদার





(আমি আর কিছু না বলে সামনের দিকে পা বারালাম।এখানে থেকে আর লাভ নেই।এখানে কেও আমাকে বিশ্বাস করবে না।নেহা তো আমার চরিত্র সম্পর্কে জানে।ও কিভাবে পারল আমাকে অবিশ্বাস করতে।আর যেখানে নিজের মা বাবাই বিশ্বাস করে না সেখানে নেহা তো দুরের কথা।না আর থাকবো না এই শহরে আজ রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিবো।)

আমি বার বার পেছনে তাকাচ্ছিলাম এই বুঝি নেহা আমায় ডাক দেয়।কিন্ত না।নেহা আমার দিকে ফিরেও তাকালো না।হায়রে দুনিয়া কেউ আমার থেকে সত্য যানতে চাইল না।সবাই আমাকে অবিশ্বাস করলো।

আমি আর দেরী না করে বাস স্টেশনের দিকে পা বারালাম।আর থাকতে পারবো না এই অবিশ্বাসএর মাঝে।

আমার কাছে জমানো 5 হাজার টাকার মতো ছিল।সেই টাকা নিয়েই রওনা হলাম।

আধা ঘন্টা হাটার পরেই বাস স্টেশনে এসে পৌছালাম।

বাস স্টেশনে আসার পরেই মনে হলো কেও আমাকে ডাকছে।পেছনে তাকালাম।দেখি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড অনিক দোউরাতে দোউরাতে আসছে।ও হাত নাড়িয়ে আমাকে থামতে বলছে।আচ্ছা ও আমাকে কেন থামতে বোলছে.....??ও কি আমাকে সবার মত অবিশ্বাস করবে...??দেখা যাক।ও ততক্ষণে আমার কাছে এসে গেছে।


অনিকঃশাওন দারা।(হাপাতে হাপাতে)তুই কই যাচ্ছিস।আর সবাই এসব কি বলছে.....?

আমিঃ বিশ্বাস কর ভাই আমি এসবের কিচ্ছু করিনি।নিলা আমাকে ফাসিয়েছে।(বলেই আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না।কান্না শুরু করলাম)

হটাৎ ই অনিক আমাকে জরিয়ে ধরে....বলল

অনিকঃআমি জানি ভাই তুই এমন কাজ করতেই পারিস না।আমি তোকে ছোট বেলা থেকে চিনি।দুনিয়া উল্টে গেলেও কেউ আমাকে বিশ্বাস করাতে পারবে না যে তুই এই কাজ করেছিস।(আমার মাথায় হাত রেখে)


(আমি অবাক হয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।হায়রে বন্ধুত্ব।যেখানে মা বাবা এমন কি প্রেমিকা পর্যন্ত বিশ্বাস করলো মা সেখনে বন্ধু আমায় জরিয়ে ধরেছে।হয়তো এজন্যই একে বন্ধুত্ব বলে)


আমিঃআমার সাথেই কেন ওমন হলো বলতে পারিস.....????😭😭😭😭

অনিকঃজানি না রে ভাই তুই চিন্তা করিস না আল্লাহ চাইলে সব ঠিক হয়ে যাবে..।আচ্ছ এখন তুই কই যাবি ঠিক করেছিস.....??
আমিঃভাই এই অবিশ্বাসের মধ্যে আমার পক্ষে থাকা আর সম্ভব না।আমি ঠিক করেছি ঢাকা চলে যাব।সেখনে গিয়ে কোন একটা কাজ খূজে নিব।

অনিকঃঠাসসসসস।(আমি গালে হাত দিয়ে রইলাম)ওই সালা কাজ করবি মানে.....??শোন তোকে অনেক বড় হতে হবে।তুই আমার মাথায় হাত রেখে বল তুই পড়ালেখা বন্ধ করবি না।(আমার হাত টা ওর মাথায় রেখে(

আমিঃনিশ্চুপ......

অনিকঃ ও তুই ঢাকা কই থাকবি এই চিন্তা করছিস দারা(বলেই পকেট থেকে একটা কাগজ বের করলো।)এই নে এইটা আমার চাচার ঠিকানা।ওনার কোন ছেলে মেয়ে নেই।তুই এখান থেকে গিয়ে ওনার বাসায় উঠতে পারিস।

আমিঃকিন্ত উনি আমাকে উনার বাসায় কেন উঠতে দিবেন.....??আর উনি যদি সব যানেন তাহোলে তো আমায় বের করে দিবেন।

অনিকঃআরে ধুর সালা তুই সুধু যা বাকিটা আমি ম্যানেজ করে নিব।উনি আমায় নিজের ছেলের মত ভালোবাসেন আর বিশ্বাসও করেন।আমি উনাকে সব বুঝিয়ে বলবো।তোর কোন প্রবলেম হবে না।উনি তোকে ঢাকায় ভালো কোন কলেজে ভর্তি করিয়ে দিবে।

(আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না।ভাগ্যিস এমন একটা বন্ধু ছিল।আমি ওকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিবো ভাষা খুজে পাচ্ছিলাম না।)

আমিঃভাই তোর এই উপকার আমি কখনো ভুলবো না।তোকে অনেক ধন্যবাদ। 

অনিকঃওই সালা বন্ধুর মাঝে আবার কিসের ধন্যবাদ।আর সোন(ওর মানিব্যাগটা বের করে)ধর আমার কাছে এই ৩ হাজার আছে এইটা রাখ।পরে কাজে লাগবে।

আমিঃনা ভাই লাগবে না আমার কাছে আছে। 

অনিকঃআরে ধূর সালা ধর।পরে আবার ফেরত দিয়ে দিস।

(আমি ওকে জরিয়ে ধরে বাচ্চা দের মত কান্না শুরু করলাম) 

অনিকঃদেখ ভাই আল্লা চায় তো সব আবার আগের মত ঠিক হয়ে যাবে।তুই শুধু মন দিয়ে পরালেখা করে নিজেকে গড়ে তোল।।

(বাস ছেরে দিল।আমি ওকে বিদায় দিয়ে বাসের ভেতর উঠে গেলাম।বাইরে তাকিয়ে একবার দেখলাম কেউ আমাকে নিতে এলো কিনা।নাহ কেউ আসেনি।সুধু আমার বুন্ধুটা হাত নেড়ে বিদায় জানাচ্ছে।আমিও ওকে বিদায় জানালাম)


আজ আমি রওনা হোলাম নতূন জীবনের উদ্দেশ্য।কাল থেকে আমার নতুন জীবন শুরু।




চলবে......


মন্তব্যসমূহ