গল্পঃমিথ্যা অপবাদ পার্টঃ৪ লেখকঃশাওন শিকদার

 গল্পঃমিথ্যা অপবাদ

পার্টঃ৪
লেখকঃশাওন শিকদার





(এমন সময় আমার ফোনটা বেজে উঠলো।কে ফোন দিল সেটা দেখার জন্য ফোন নিলাম।ফোনাটা হাতে নিয়ে আমি অবাক হয়ে গেলাম।নিলা ফোন দিছে।এখন কেন ফোন দিছে।আমার সবই তো শেষ করে দিল।এখন আবার কেন ফোন দিল।)

হানিফ চাচাঃকি হল বাবা কে ফোন দিল....?

আমিঃচাচ্চু নিলা ফোন দিছে...!!!

হানিফ চাচাঃনিলা কি সেই মেয়েটি যার কথা অনিক বলছিল?

আমিঃজি
(এদিকে ফোনটা বেজেই চলছিল।আমি হানিফ চাচা এর দিকে তাকিয়ে ছিলাম।উনি কিযেন ভাবলেন।তারপর বললেন.....)

হানিফ চাচাঃশাওন ফোনটা ধর।আর হ্যা ফোনের ভলিউম বাড়িয়ে দাও মেয়েটা কি বলে আমরাও শুনি।

(আমি ফোনটা রিসিভ করলাম)

(ওপাস থেকে নিলা বলল....)

নিলাঃহ্যালো শাওন তুই কই.....??

আমিঃনিশ্চুপ(আমার কথা বলতে মন চাইছিল না।আমি চাচার দিকে তাকিয়ে ছিলাম।উনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন কথা বলার জন্য)

নিলাঃশাওন তুই শুনতে পাচ্ছিস....?তুই কই....?

আমিঃকেন কল দিয়েছিস..?আর কি আছে সেস করার।আমার সবই তো শেস করে দিলি।

নিলাঃদেখ শাওন এখনো কিছু শেষ হয় নি।তুই যদি আমার কথা না শুনিস তাহলে সব সেস হয়ে যাবে।কাল সকালে বাসায় উকিল আসবে। চাচা চাচি তোকে ত্যাজ্য পুত্র ঘোষণা করবে।তুই উনাদের সব সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবি।দেখ শাওন এখনো কিছুই শেষ হয় নি।তুই একবার আমায় বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যা বাকিটা আমি সামলে নিব।

আমিঃনিশ্চুপ (হানিফ চাচা আর চাচি একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে
নিলা কিছুক্ষন চুপ থাকলো।তারপর আবার বলে উঠলো......)

নিলাঃশাওন তুই একবার ভেবে দেখ তুই রাজি হলে তুই তোর বাবা মায়ের কাছে ফিরে আসতে পারবি।তোর বাবা মায়ের জন্য হলেও রাজি হয়ে যা।

(বাবা মায়ের কথ শুনে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল।মনে হল এখনি রাজি হয়ে যাই।কিন্ত না।আমি যদি রাজি হই তাহলে অন্যায়কে প্রশ্র‍য় দেওয়া হবে।সারাজীবন ধর্ষক অপবাদ মাথায় নিয়ে বাচতে হবে।আর কোন বাবা মায়ের কাছে ফিরে যাব...??যারা অন্য একটা মেয়ের কথা শুনে নিজের ছেলেকে অবিশ্বাস করে তাদের কাছে....?কখনোই না)

আমিঃদরকার নেই এমন মা বাবার যারা তোর মত একটা দুশ্চরিত্র মেয়ের কথা শুনে নিজের ছেলেকে অবিশ্বাস করে। আর শোন ভবিষ্যতে আর আমাকে ফোন দেওয়ার চেস্টা করবি না।
(বলেই ফোনটা কেটে দিলাম।নিলার নাম্বার টা ব্লাকলিস্টে ফেলে দিলাম।হানিফ চাচা আর চাচি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।আমার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছে।আমি আর খেলাম না।খাওয়া রেখে নিজের রুমে এসে বসলাম।মানুষ অল্প শোকে কাতর হয়।কিন্ত আমি অধিক শোকে পাথর হয়ে গেছি।)

চাচি আমায় ডাকতে চাইল।কিন্ত চাচা থমিয়ে দিল।বললো.....

হানিফ চাচাঃথাক যেতে দাও।ছেলেটার ওপর দিয়ে কত বড় একটা ঝড় জাচ্ছে।ওকে একটু একা থাকতে দাও।একা থাকলে মনের কষ্ট টা হালকা হবে।তুমি কিছুক্ষন পরে ওর রুমে খাবার নিয়ে যেও।বাচ্চা মানুষ। মা বাবার কথা মনে পরছে হয়তো।

চাচিঃ(একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে)আচ্ছা।

(আমি আমার রুমে এসে বসলাম।পাসে দেখি বেলকুনি আছে।বেলকুনি দিয়ে চাদ দেখা যাচ্ছিল
আমি বেলকুনি তে গিয়ে চাদ দেখে সব ভোলার চেষ্টা করছিলাম।এমন সময় অনিক ফোন দিল....)

অনিকঃকিরে কি খবর...?

আমিঃ(দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধির কন্ঠে)হ্যা ভালোই।

অনিকঃওখানে কোন অসুবিধা হচ্ছে নাতো.....?

আমিঃনা না কোন অসুবিধা হচ্ছে না।

অনিকঃশোন তুই অনেক যার্নি করেছিস।এখন আর যেগে থাকিস না।শরির খারাপ করবে।তুই চিন্তা করিস না।আল্লাহ চাইলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

আমিঃআচ্ছ।

অনিকঃআর শোন।নেহার খবর শুনেছিস...?

আমিঃকি খবর...?

অনিকঃনেহার ঢাকা একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে চাকরি হয়েছে।

আমিঃও ভাল।

অনিকঃ আচ্ছা তুই ঘুমা।

(আমি এসে সুয়ে পরলাম।কিচুক্ষন পরে চাচি আমার রুমে ভাত নিয়ে আসলো।চাচি বললো...)

চাচিঃউঠো শাওন খেয়ে নেও।

আমিঃনা চাচি এখন ভালো লাগছে না।

চাচিঃতা বললে কি হবে......??সেই সকাল থেকে একটানা যার্নি তারপর না খেয়ে আছো তুমি অসুস্থ হয়ে যাবে।তুমি উঠো আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি।

(চাচি র চোখে মুখে কিছুটা মলিন ভাব দেখতে পেলাম।উনি আমার ওপর মায়ের মত অধিকার খাটাচ্ছেন।আসলে মা না হতে পারার কষ্ট টা কেমন সেটা উনাকে দেখলে বোঝা যায়।সব নারীর ই তো মা হতে ইচ্ছে হয়।নারীর আসল মহিমাই তো এই ব্যাপারটায়।কিন্ত চাচি মা হওয়ার সুখ থেকে বঞ্চিত। চাচির জন্য আমার মায়া হতে লাগলো।আচ্ছ কেমন হয় যদি আমি যতদিন আছি তত দিন যদি আমি উনার মা হওয়ার ইচ্ছেটা পুরন করি।একবার বলে দেখি)

আমিঃচাচি আমি কী আপনাকে মা ডাকতে পারি....?

(চাচি মনে হয় প্রস্তুত ছিলেন নাএই কথা টার জন্য।উনি আমার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে রইলেন।ওনার চোখের কোনায় পানি এসে গেছিল।উনি হটাৎ আমায় জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করলেন।একজন নারীর মা হতে না পারার কষ্ট কেবল একজন নারীই বুঝতে পারে....আমি উনার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম।এমন সময় দেখি চাচা দরজায় দাড়িয়ে আছে।উনার চোখেও পানি।উনি হাত দিয়ে নিজের চোখ মুছছেন।এমন সময় চাচ বলে উঠলো.....) 

চাচাঃআহ সালমা কি হচ্ছে...?ছেলেটা সকাল থেকে না খেয়ে আছে...ওকে আগে কিছু খেতে দাও।

(চাচি আমাকে ছাড়ছিল না।আমায় জড়িয়ে ধরেছিল।চাচার চোখটাও ছলছল করছিল।এমন সময় চাচা আবার বলে উঠলো.....) 

জানি একদিন ভাংবে ভুল, সেদিনের অপেক্ষায় কাটাই প্রহর। কোনো দোষ ছিলোনা প্রমাণ করে নস্ট জীবন থেকে নিবো অবসর।

চলবে...

মন্তব্যসমূহ