গল্পঃমিথ্যা অপবাদ পার্ট: এগার লেখক :শাওন সিকদার
গল্পঃমিথ্যা অপবাদ
পার্ট: এগার
লেখক :শাওন সিকদার
,
,
,
আমি:কি হল চাচা তোয়ালে টা দেন...
,
,
(বাইরে থেকে একটা তোয়ালে দিল!আমার খিদেটা মনে হয় একটু বেসিই ছিল!তারাতারি ফ্রেস হয়ে ওয়াসরুমের দরজাটা খুললাম!কিন্ত দরজা খুলে আমি যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তত ছিলাম না!আমি একদম আতকে উঠলাম,,একি এ আমি কাকে দেখছি....??এতো নেহা!!!ও এখানে কি করছে...?ওর গায়ে পুরো ঝোল লেগে আছে ও নতুন একটা জামা নিয়ে দারিয়ে আছে!ও হয়তো জানতো এখানে একটা ওয়াসরুম আছে!পুরো বারিতে মানুষের ভির থাকায় মনে হচ্ছে এখানে এসেছে...!ওর চোখ মুখ লাল হয়ে আছে!মনে হয় আমার কন্ঠ শুনে আমায় চিনে ফেলেছে...ধূর এখন আমি কি বলি...?)
.
,
আমি:এ এ এ এ একি ন ন ন ন নেহা ত ত তুমি এখানে...?
.
.
(ও আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে!ওর চোখ দুটি ছল ছল করছে,ও হয়তো আমাকে এখানে দেখার জন্য মোটেও প্রস্তত ছিল না!একি ও তো দাড়িয়ে আছে,,আমি ওকে ওয়াসরুমে ডুকিয়ে দিলাম!)
,
,
আমি:আগে ফ্রেস হয়ে নেও যা জিজ্ঞেস করার পরে জিজ্ঞেস করবা...
.
.
(ও দরজা আটকিয়ে ফ্রেস হতে থাকলো,,ও ফ্রেস হতে পাচ মিনিটো টাইম নিল না বের হয়ে আসলো,,,আমি ওকে ডাক দিলাম,,,)
.
.
আমি:নেহা প্লিজ আমার কথা শুন,,,
,
,
(ও আমার দিকে না তাকিয়ে চলে যেতে লাগলো,,ও যদি সবাইকে বলে দেয় আমি এই রুমে তাহলে কী হবে..?সমস্যা নেই ওকে কীভাবে চুপ করাতে হবে সেটা আমি ভালো করে জানি..)
.
.
আমি:আমার দিব্যি রইলো,,আমি যে এইখানে আছি সেটা তুমি মা বাবা নিলা কাউকে বলবা না,,
,
,
(নেহা আমার দিকে একবার তাকাল,,,তারপর চলে গেল!এবার আমি নিশ্চিন্ত!আমি যে এইখানে সেটা ও আর কাউকে বলবে না!ও আমায় যতই রাগ করুক ও এখনো আমায় ভালোবাসে!সেটা আমি ভালো করে জানি)
.
.
(নেহা চলে গেছে 20 মিনিট হয়ে গেছে!এখনো বুড়া চাচার খাবার নিয়ে আসার কোন খবর নেই!হঠাতই দরজায় করা নারার সব্দ!যাক মনে হয় খাবার নিয়ে এসে গেছে!কিন্ত দরজা খুলে আমি আরো বর লেভেলের শক খেলাম!একি এখনে অনিক দারিয়ে আছে!ও কীভাবে জানলো আমি এখানে!!আমি ওর পেছনে তাকিয়ে আরো অবাক হলাম,,,ওর পেছনে নেহা দারিয়ে আছে আর নেহা ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে!কিন্ত ও কাদছে কেন...?হঠাত অনিক বলে উঠলো,,,,,)
.
.
অনিক:দেখ ভাই আমি নেহাকে সব বুঝিয়ে বলেছি ও ওর নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে!!ও তো এখানে আসতেই চাচ্ছিল না!তুই নাকি ওকে ক্ষমা করবি না!আমি জোর করে নিয়ে এলাম,,,
.
.
আমি:কিন্ত......
,
,
অনিক:না ভাই কোন কিন্ত না!ও তো ওর নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে!ও এখন অনুতপ্ত!তোর এখন ওকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত!ওর আর তোর মাঝে পার্থক্য থাকবে কী যদি তুই ওকে ক্ষমা না করিস!দেখ ভাই তোকে আমি আবার বলি আরেকবার ভেবে দেখ আজ যদি তুই তোর ইগোর দিকে তাকিয়ে ওকে ক্ষমা না করিস তাহলে সারা জীবন তোদের কষ্ট করে কাটাতে হবে!তোরা সারাজীবন কষ্ট পাবি কি না সেটা তোর আজকের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে!
.
.
(অনিক নেহাকে আমার রুমে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে দরজা চাপ দিয়ে চলে গেল!ওর শেষ কথা গুলো প্রতিটা আমার মনে গেথে আছে!ঠিকিতো আজ যদি আমি একটু মানিয়ে নেই তাহলেই তো সব মিটে যায় !প্রতিদিন কত শত সম্পর্ক ভেংে যাচ্ছে একটুখানি মানিয়ে নেওয়ার অভাবে!না আমি সেই ভুল কখনোই করবোনা!ইসসসস কেদে কেদে কি হাল করেছে মেয়েটা আজ যদি আমি ওকে ক্ষমা না করি আমি নিশ্চিত ও কিছু একটা করে বসবে!কিন্ত এত সহযে তো আর ক্ষমা করা যায় না!ওকেও কিছু দিয়ে নেই..
,
,
আমি:দরকার নেই আমার এমন ঠুনকো ভালোবাসার যেখানে কোন বিশ্বাস নেই!আমি একাই ভালো আছি!
.
.
(নেহা ওমনি আমাত কাছে এসে আমার পা জরিয়ে ধরলো,,,ও আরো জোরে চিতকার দিয়ে কাদতে লাগলো,,রুমটা সাউন্ডপ্রুফ হওয়ায় সাউন্ড বাইর যাচ্ছে না নাহলে ও যেভাবে কান্না করছে এতক্ষনে বিয়ে বারির সবাই এসে যেত!ও চিতকার করে বলতে লাগলো,,,,)
.
.
নেহা:প্লিজ শাওন আমায় ক্ষমা করে দাও!!আমি আর কখনো তোমায় অবিশ্বাস করবো না!
.
.
(ওর কান্না দেখে আমারই কান্না পাচ্ছিল কিন্ত কী কিরার ওকে আগে আমার ভালোবাসাটা অনুভব করাতে হবে!আমি আমার পাটা ছাতিয়ে নিয়ে খাটে গিয়ে বসলাম..এমন সময় দরজায় আবার কে জেন কড়া নারলো,,,)
.
.
আমি:এই নেহা প্লিজ চুপ,করো কে যেন এসেছে তুমি কান্না থামাও আমি দেখছি..
.
.
(নেহা মুখ হাত দিয়ে চেপে কান্না করতে লাগলো!আমি দরজা খুলে দেখি ওই সালা বুইরা এতক্ষনে খাবার নিয়ে এসেছে!বুইড়াটা তার ফোকলা দাতে একটা হাসি দিয়ে বললো..)
.
.
লোকটা:একটু দেরি হইয়া গেছে বাজান!আসলে একটু খিদা লাগছিল আর কি!!!
.
.
আমি:আচ্ছা চাচা সমস্যা নেই!আপনি খাবার টা দেন আমি খেয়ে নিব!আর খেয়াল রাখবেন এদিকে যেন কেউ না আসতে পারে!
.
.
লোকটা:আরে বাজান তোমারে হেগুলা নিয়া চিন্তা করা লাগবো না!
,
,
(লোকটা খাবার গুলা আমার হাতে দিয়ে চলে গেল!এদিকে নেহার কান্নার পরিমান বেরেই চলেছে!ও মনে হয় কাদতে কাদতে অজ্ঞান হয়ে যাবে!আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এল!আমি খাবার গুলো টেবিলে রেখে খাটে গিয়ে বসলাম!তারপর বললাম...)
,
,
আমি:আচ্ছা আমি তোমায় ক্ষমা করতে পারি তবে একটা শর্তে..
.
(এবার ওর কান্নার বেগ কিছুটা কমলো,,,ও চোখ মুছতে মুছতে বললো..)
.
.
নেহা:কি শর্ত বল আমি তোমার সব শর্তে রাজি!
.
.
আমি:সত্যি..?
.
.
নেহা:হুম
,
,
আমি:তাহলে ওই টেবিলে রাখা খাবার গুলা আমায় খাইয়ে দাও!
.
.
(এবার ওর মুখে হাসি ফুটলো!ওর হাসি মাখা মুখটা দেখে আমারো ভালো লাগলো!নেহা দোউরে এসে আমার উপর ঝাপিয়ে পরলো!আমায় এলোপাথারি কিস করতে লাগলো!এ খোদা এ আমায় কিস করছে নাকি ঠোটের সব লিপস্টিক আমার গালে মুছছে ওই ভালো জানে)
.
.
.
.
চলবে...

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন