গল্পঃবেলা শেষে লেখকঃশাওন সিকদার পর্বঃ১


গল্পঃবেলা শেষে

 লেখকঃশাওন সিকদার

 পর্বঃ১


রেস্টুরেন্টে খাবার পরিবেশন করার সময় নিজের চার বছর আগের প্রাক্তন স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে দেখে নিজের অজান্তেই বুকের বা পাশ টা মোচর দিয়ে উঠলো।প্রাক্তন স্ত্রী বললে ভুল হবে,সে এখনো আমার স্ত্রী,ডিভোর্স হয় নি।কিন্ত সেদিন মারের পর আমায় গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।সেই থেকে পরবর্তী চার বছর তার সাথে দেখা হয় নি।নিজের অজান্তেই চোখে পানি এসে গেল।চার বছর হয়ে গেছে,এখনো অনুভূতি গুলো আগের মতই জীবন্ত।খালি অপ্রকাশিত অবস্থায় মনের এক কোনে বয়ে বেড়াচ্ছি।

-----------------------

বনফুল রেস্টুরেন্টে আজ দেড় বছর ধরে কাজ করি।ঢাকার শহরের অন্যতম নামকরা রেস্টুরেন্ট।তখন ইন্টার ২য় বর্ষে ছিলাম এখন অনার্স শেষ বর্ষে আছি।পড়ালেখার পাশাপাশি এই রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব করি।প্রতিদিন বিকাল চারটা থেকে রাত ১০ টা।বেতন ৮,০০০।এতে নিজের খরচ ভালোভাবেই চলে যায়।এক্সট্রা টাকা ইনকামের চেস্টা করি না।অতিরিক্ত সম্পদ মানুষের সুখী হওয়ার অন্যতম অন্তরায়।তাই অর্থের পেছনে না ছুটে সুখী হওয়ার চেস্টা করি।

------------------------

প্রায় বিকাল চারটার দিকে প্রতিদিনের মত কাজ কাজ করতেছিলাম।একজন ভদ্রলোক অনেক্ষন ধরে ম্যানেজারের সাথে কথা বলার জন্য বসে আছে।কিন্ত ম্যানেজার জরুরী কাজে বাইরে গেছে।আমি কাজ মানুষের খাবার সার্ভ করছিলাম ।হঠাৎ ভদ্রলোক আমায় ডাক দিলেন।

---এই ভাই শুনো।
----জি স্যার বলেন।
----আজ সন্ধ্যার পর ২৮ নাম্বার টেবিলটা বুক করা যাবে?মাত্র এক ঘন্টার জন্য।আর সাথে কিছু অর্ডার।
----অবশ্যই স্যার,কেন নয়।কিন্ত এজন্য আপনাকে ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
----আরে ম্যানেজারকে এখন কোথায় পাব।উনাকে তো দেখছি না।প্লিজ ভাই তুমি ম্যানেজ করো।অনেক ইম্পোর্টেন্ট।টাকা যা লাগবে আমি দিব।প্রয়োজনে বকশিশ ও পাবা।
-----না স্যার বকশিশের বিশেষ প্রয়োজন নেই।কিন্ত আপনার যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ তাহলে আমি আপনার জন্য সিট বুক করে রাখবো।কিন্ত স্যার,,,,
-----টাকার কথা বলছো তাইতো,এই নেও এইখানে ২০০০ আছে,এটা এডভান্স হিসেবে দিলাম।বাকিটা যাওয়ার সময় দিব।
-----ওকে স্যার।আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।মনে করুন আপনার টেবিল রিজার্ভ  হয়ে গেছে।
-----ধন্যবাদ ভাই।তোমাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিন জানা নেই।অনেক বড় উপকার করলে।
-----আরে না স্যার সমস্যা নেই।তা স্যার ইম্পোর্টেন্ট কাজটা কি?আজ ১৪ ফেব্রুয়ারিতে স্পেশাল কাউকে প্রপোজ করবেন নাকি?(মুচকি হেসে বললাম)
স্যার লজ্জায় লাল হয়ে বললেন
-----হ্য,তেমনই বলতে পার।তা তোমার কথাবার্তা শুনে তো মনে হচ্ছে পড়ালেখা করো।কোন পর্যন্ত পড়েছ?
-----জী স্যার তীতুমির কলেজে বায়োলজিতে অনার্স করছি।শেষ বর্ষ।
খানিকটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালেন।এতটা পড়ে কেউ রেস্টুরেন্টে কাজ করে??অনেক প্রশ্ন ছিল তার চোখে মুখে কিন্ত ব্যাস্ততার কারনে জিজ্ঞেস করা হয় নি।হঠাৎ ব্যাস্ততা দেখিয়ে উনি একটা কার্ড বের করে দিলেন।
-----এই নেও আমার কার্ড,কোন সাহায্য লাগলে বলতে পারো।আমি যাই আরো কাজ আছ।বুঝতেই তো পারছো সব।তুমি টেবিল টা রেডী করে রাখ আমরা রাত ৮ টার দিকে আসবো।

কার্ডটা নিয়ে দেখলাম,উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ।নাম ইমতিয়াজ আহমেদ ।এত বড় একজন মানুষ এত সাধারণ চলাফেরা করে ভাবতেই অবাক লাগে।উনি চলে যাচ্ছেন,আমি আবার ডাক দিলাম

----এই যে স্যার শুনুন।
উনি খানিকটা বিরক্ত হয়ে ফিরে তাকালো।সম্ভবত পেছন থেকে ডাকাটা উনার পছন্দ হয় নি।একটু বিরক্তি নিয়ে বললেন
-----কিছু বলবে?টাকা তো দিয়ে দিলাম,আর কিছু?
-----না স্যার সেই ব্যাপার না।বলতে চাচ্ছিলাম ডায়মন্ড রিংটা ব্লু কালারের নিয়েন।মেয়েদের এই কালার টা ভারী পছন্দ।

ক্ষনিকেই বিরক্তি মাখা মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেল।উনি হয়তো ভাবতে পারেন নি উনার ব্যাস্ততার কারন টা অন্য কারো বোধগম্য হবে।হালকা মুচকি হাসি দিলেন।অনেক প্রশ্ন চোখে মুখে।কিন্ত ব্যাস্ততার কারণে আর জিজ্ঞেস করা হয় নি।উনি চলে গেলেন।আমিও আমার কাজে মন দিলাম।আজকাল এগুলো দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।আজকাল এখানে প্রায়ই এমন জিনিস হয়ে থাকে।প্রথম প্রথম খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতাম।কখনো মিলন কখনো বিচ্ছেদ।কত যে মিলন আর বিচ্ছেদ দেখলাম তার কোন হিসেব নেই।আজকেও দেখার পালা,মিলন হয় নাকি বিচ্ছেদ

---------------------------

-----সাইফুল
-----জী শাওন ভাই বলেন।
-----সাতটা তো প্রায় বেজে গেল।২৮ নাম্বার টেবিলটা ঝটপট রেডী করে ফেল।ম্যানেজার এখনো আসার নাম নেই।আজকে বোধয় আর আসবে না।
-----ভাইয়া,২৮ নাম্বার কেবিনে কি,,,,
-----আজকে বোধয় প্রপোজ হবে,তাই টেবিল টা বুক করে রেখে গেছে।দুই হাজার দিয়ে গেছে।বাকিটা যাওয়ার সময় দিবে।
-----ওহ আচ্ছা।

সাইফুল চলে গেল টেবিল সাজাতে।এখানে প্রায়ই এমন প্রপোজ হয়।আমি আর সাইফুল এখন সেগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।তাই সাইফুলকে বেশি কিছু বলা লাগে নি।অল্পতেই বুঝে গেছে।আমার সহকর্মী সাইফুল। আজকালকার যুগে এমন ভদ্র ছেলে পাওয়া মুসকিল।ও আমার সাথেই তিতুমীর কলেজে পড়ে।কিন্ত আমার দুই ইয়ার জুনিয়র।একাউন্টিং এ অনার্স করছে।এই চাকরিটা পেতে আমি ওকে অনেক সাহায্য করেছি।সেই হিসাবে আমাকে অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই সম্মান করে।কলেজেই পরিচয় আমাদের।একদিন কলেজে আমায় একটা চাকরির কথা বলে।আর ভদ্র ছেলে হিসেবে ম্যানেজার ও আমাকে ভালোভাবে চিনে।তাই সহজেই ওর জন্য এই চাকরির ব্যাবস্থা টা করতে পারলাম।

----------------------

আটটা বেজে পাচ মিনিট।এখনো ইমতিয়াজ সাহেবের কোন দেখা নেই।এইদিকে আমি রেডী হয়ে বসে আছি।কিছুক্ষন পরেই একটা কালো প্রাইভেট কারের দেখা মিললো।রেস্টুরেন্টের সামনেই পার্ক করলো কারটি।ইমতিয়াজ সাহেব তরিঘরি করে নামলেন কার থেকে।উনার চোখমুখ বলে দিচ্ছে উনি কতটা উত্তেজিত। আমার খুব হাসি পাচ্ছে উনার অবস্থা দেখে।উনার মানসিক অবস্থা টা আমি ভালোভাবেই আন্দাজ করতে পারছি।আমিও সাথে সাথে মেন্যু কার্ড নেওয়ার জন্য ম্যানেজারের টেবিলে গেলাম।ম্যানেজার সাহেবও কিছুক্ষন আগে এসে পড়েছিলেন।ম্যানেজার কে বললাম

-----স্যার
-----হ্যা বলো
-----২৮ নম্বরের টেবিলের উনারা এসে পড়েছে।
-----আচ্ছা,তাইলে তুমি ম্যেনু কার্ড টা নিয়ে যাও।
-----আচ্ছা
-----আর হ্যা বিলটা নিয়ে এসো,আমি আজ একটু তাড়াতাড়ি বের হবো।
-----আচ্ছা।

আমি ম্যেনু কার্ড টা নিয়ে ২৮ নাম্বার টেবিলের দিকে রওনা হলাম।দূর থেকে দেখা যাচ্ছে ইমতিয়াজ সাহেব আমার দিকে মুখ করে বসেছে।আর উশখুশ করে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে।হয়তো আমাকেই খুজছে।আর একজন মেয়ে আছে।মেয়ে না মহিলা ঠিক বুঝতে পারছিনা।শুধু চুল গুলো দেখা যাচ্ছে,শাড়ি পরা কেউ একজন উল্টা হয়ে বসে আছে।এর ভেতর আমি তাদের কাছে পৌছালাম।

-----স্যার,এই যে ম্যেনু কার্ড,দেখুন আপনাদের কি লাগবে।
-----ইউ রাসকেল, কখন থেকে অপেক্ষা করেছি খবর আছে?কই ছিলা এতক্ষন?মাত্র আসার সময় হলো?

আমাকে দেখেই চটে গেল ইমতিয়াজ সাহেব।।দুই মিনিটও লেইট হয় নাই।তাতেই রেগে কাহিল।হয়তো প্রিয় মানুষের সামনে নিজের পুরুষত্ব জাহির করার জন্যই এই আচরন।মুহূর্তেই মনটা খারাপ হয়ে গেল।কয়েকঘন্টা আগেও কি সুন্দর ব্যবহার করেছিলেন।হঠাৎ করেই কি পরিবর্তন। আসলে দুনিয়াটাই এমন।মানুষ পরিবর্তনশীল।কারো কথার উপর নির্ভর করাটা নিত্যান্তই বোকামো।রেস্টুরেন্টে কাজের সুবাদে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়।হয়তো একটু শিক্ষিত বলেই আত্মসম্মানে লাগে।কিন্ত নিত্যান্তই বাধ্য হওয়ায় কিছু বলি না।ম্যানেজারের কড়া নিষোধজ্ঞা।যতই খারাপ ব্যবহার করুক কাস্টমারের সাথে কখনো ঝামেলা না করা যাবে না।

পাশের মেয়েটা বলে উঠলো
-----থাক না ইমতিয়াজ, বেশি লেইট তো হয় নি,বাদ দাও।
-----আচ্ছা তুমি বললে তাই ছেড়ে দিলাম।এই ছেলে,এমন কাকতাড়ুয়ার মত দাঁড়িয়ে আছো কেন?ম্যেনু কার্ড টা দাও।তুমি কি নিবে সিমি অর্ডার করো।

কন্ঠটা কেমন জানি পরিচিত লাগছিল মেয়েটার। কিন্ত সিমি নামটা শুনার জন্য আমি মোটেও প্রস্তত ছিলা। না।আমি কয়েক মুহূর্তের জন্য বর্জ্যাহত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।এখনো সিমি নামক মেয়েটার দিকে তাকাই নি।একি সেই সিমি,যাকে আমি চার বছর আগে হারিয়েছিলাম,নাকি অন্য কেউ।তার দিকে তাকানোর সাহস হচ্ছে না আমার।ঘারটা মনে হয় কেউ হাতল দিয়ে আটকে রেখেছে।আমি কাপা কাপা হাতে ম্যেনু কার্ডটা এগিয়ে দিলাম।ধীরে ধীরে নিজের দৃষ্টি সিমি নামক মেয়েটার উপর ফিরালাম।সিমিকে দেখার সাথে সাথে মনে হচ্ছে দুনিয়াটা থমকে গেছে। বুকের দুপ দুপ শব্দটা যেন হঠাৎ বেড়ে গেছে।এমনটাতো হওয়ারই কথা।এতো সেই সিমি।যাকে আমি চার বছর আগে হারিয়েছিলাম।এখনো আমার স্পষ্ট মনে আছে সেই বৃষ্টি ভেজা সকালের কথা,যেদিন আমায় মেরে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।সেদিনের মারের দাগ গুলো এখনো পুরোপুরি মিলিয়ে যায় নি।পুরো শরীরে এখনো সেই মারের দাগ বিদ্যমান।সেই সাথে সেদিন সিমির কান্নাভেজা চেহারাটাও স্পষ্ট মনে আছে।হ্যা সিমি আমার বিবাহিত স্ত্রী।কোন এক দুর্ঘটনায় আমরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম।কিন্ত আমাদের এখনো ডিভোর্স হয় নি।সিমি আজও আমার বিবাহিত স্ত্রী।নিজের অজান্তেই চোখ দুটি ভিজে এলো।বেহায়া চোখ দুটোকে অনেক চেস্টা করেও সামলাতে পারিনি।চোখদুটো ছল ছল করছে।শুধু বাধ ভাঙার অপেক্ষায়।

সিমি এখনো আমার দিকে তাকায় নি।ম্যেনু কার্ডে তার নজর।কি অর্ডার করবে তা নিয়ে রীতিমতো  গবেষনা চালাচ্ছে।এখনো আগের মতই আছে সিমি।হ্যাংলা পাতলা গড়নের,চুল গুলো হালকা লাল,চোখ দুটোতে যেন অসীম মায়া ভর করে আছে,কন্ঠ টাও আগের মত।খালি আগের মত হাস্যোজ্জল চেহারাটা আর নেই।দু চোখের নিচে কালো দাগ হয়ে গেছে।

এখনো সিমি আমার দিকে তাকায় নি।দেখে মনে হচ্ছে কি অর্ডার করবে সিলেক্ট করা শেষ।আমার দিকে না তাকিয়েই বললো

-----ভাইয়া এখন আপাতত কোল্ড কফিই দেন।আর কিছু লাগবে না।

বলেই ম্যেনু কার্ডটা আমার দিকে বারিয়ে দিল।আমার দিকে একনজর তাকিয়েই চোখটা নামিয়ে ফেললো।কিন্ত সেটা ক্ষনিকের জন্য।চোখ টা নামানোর সাথে সাথেই আবার চোখ তুলে আমার দিকে তাকালো।সাথে সাথেই হা হয়ে গেল সিমি।আমার কান্নাভেজা চোখের দিকে একনজরে তাকিয়ে রইলো।হয়তো ভাবতে পারে নি চার বছর পর আবার এভাবে দেখা হবে।সেই এক ঝরের রাতে খানিকের প্রনয়।তারপর বিয়ে।তারপর একে একে কেটে গেল চারটা বছর।এই চার বছরে কি ভুলতে পেরেছে দুজন দুজনকে?সিমির চোখে মুখে রাজ্যের বিশ্ময়।বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে।চোখের জল বোধয় ছোয়াচে জিনিস।সিমির চোখেও জল,হয়তো এখনো বিশ্বাস করতে পারছেনা আমি ওর সামনে।
ঠোট দুটো কাপছে,,,কাপা কাপা কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো

-----শ শ শ শাওন?

আমি নিশ্চুপ রইলাম।আমার কিছু বলার নেই।এতক্ষনে ছল ছল করা চোখের বাধ ভেঙে গেল।দু চোখ গড়িয়ে দু ফোটা জল বেরিয়ে এল।আগেই বলেছিলাম চোখের জল ছোয়াচে জিনিস।সিমির চোখের জল ও বাধ মানলো না।আমার চোখের জলের সাথে পাল্লা দিয়ে ঝরা শুরু করলো।

এই হালকা জোৎনা ভরা সন্ধ্যায় দু জোড়া চোখ একে অপরের দিকে তৃষ্ণার্ত চোখে তাকিয়ে আছে।এ যেন হাজার বছরের তৃষ্ণা, যা কখনো ফুরোবার নয়।মরুভূমির মরীচিকায় অতিষ্ঠ মৃত্যুযাত্রী পথিকের পানির যেই তৃষ্ণা,তার চেয়েও ভয়ংকর তৃষ্ণা।ক্ষনিকের জন্য তারা ভুলে গেল যে তারা ছাড়াও পৃথীবিতে আরো জীবন্ত সত্তা আছে।ক্ষনিকের জন্য দুজনের পৃথীবটা আলাদা একটা ভিন্ন পৃথীবিতে রুপ নিল।যে পৃথীবিতে এই সীমাহীন তৃষ্ণা জরানো দৃষ্টিতে  ব্যাঘাত ঘটানোর কেউ নেই।একে অপরের দিকে সারাজীবন তাকিয়ে থাকবে সীমাহীন তৃষ্ণায়।

চলবে..........




মন্তব্যসমূহ