গল্পঃমিথ্যা অপবাদ পার্টঃ১ লেখকঃশাওন শিকদার

 গল্পঃমিথ্যা অপবাদ

পার্টঃ১
লেখকঃশাওন শিকদার




নিলাঃতুই আমায় বিয়ে করবি কিনা এটা বল।দেখ শাওন আমি তোকে শেষ বারের মত বলছি।তুই যদি রাজি না হস আমাকেই কিছু করতে হবে।

আমিঃদেখ নিলা বোঝার চেষ্টা কর।আমি বয়সে তোর দুই বছরের ছোট।তাছাড়া তুই আমার চাচাতো বোন।এটা কখনো হয় না আর আমার গার্লফ্রেন্ড আছে সবচেয়ে বড় হল কথা কালকে তোর বিয়ে।এখন আমাদের কেউ এই বন্ধ ঘরের মদ্ধ্যে দেখে ফেললে খারাপ হয়ে যাবে।নিলা পাগলামি করিস না।প্লিজ নিলা সর আমি যাবো।


(কাল আমার চাচাতো বোন নিলার বিয়ে।তাই আজ আমার ব্যাস্ততা একটু বেশি।চাচার কোন ছেলে নেই আর বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে আমি আর আমার একটা বড় বোন আছে।
নিলা আর আমি ছোটকাল থেকে একসাথেই বড় হয়েছি।নিলা সকালেই বলেছিল আমার সাথে কি যেন কথা আছে তার রুমে যেতে।অনেক ব্যাস্ত থাকায় যেতে পারি নি।এখন বিকাল 4 টা বাজে।চাচার কাছে কিছু হিসাব বুঝতে যাচ্ছিলাম তখনি নিলা আমাকে টেনে ওর রুমে নিয়ে গেলো।তারপর কি বললো তা তো আপনারা শুনলেনই।আসলে ও আমাকে অনেক দিন আগে থেকেই এই কথা বলছিল যে সে আমাকে ভালবাসে কিন্ত আমি তেমন পাত্তা দেই নি।নিলা দেখতে খারাপ এই কথা বলা যাবে না।কিন্ত সমস্যা হলো ও আমার চাচাতো বোন তার ওপর আমার 2 বছরের সিনিয়র।যদিও আমার গার্লফ্রেন্ড আমার চার বছরের সিনিয়র।এসব কারোনেই আমি রাজি হই নি।)

নিলাঃআরে রাখ তোর গার্লফ্রেন্ড।আমি তোকে শেষ বারের মত জিজ্ঞেস করছি তুই আমায় বিয়ে করবি কি না।

আমিঃদেখ নিলা পাগলামি করিস না।

নিলাঃআরে পাগলামি কাকে বলে সেটা তুই এবার দেখবি।আমি তোকে শেষ বারের মত জিজ্ঞেস করছি।

আমিঃঠাসসসসস (আর সয্য করতে পারলাম না জোরে একটা চর মেরে দিলাম নিলার গালে।)

নিলাঃ(গালে হাত দিয়ে)আমি তোকে শেষ বারের মত সুযোগ দিয়েছিলাম।এবার দেখ আমি কি করি।তোকে কিভাবে নিজের করে নিতে হয় সেটা আমি যানি।(এটা বলেই নিলা ওর শাড়ি খুলতে শুরু করলো।)

আমিঃএকি এই নিলা তুই কি করছিস.....???(আমি ভয় পেয়ে গেলাম।ভয়ে বুকটা দুপ দুপ করতে সুরু করলো।)দেখ নিলা প্লিজ এমন করিস না।আমার আব্বু আম্মু আমায় অনেক বিশ্বাস করে।তুই তাদের বিশ্বাসটা নস্ট করিস না।আমার বাবার মান সম্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে।

আমি কথা শেস করারা আগেই নিলা চিতকার করাতে লাগলো।

নিলাঃআব্বু কই গো তুমি আমাকে বাচাও ।চাচ্চু ও চাচ্চু কই তুমি তোমার ছেলেকে থামাও প্লিজ।(নিলা জোরে জোরে চিতকার দিতে লাগলো।আমি পুরো বাকরূদ্ধ হয়ে গেলাম।দীর্ঘ ২০ বছরের জীবনে কেউ বলতে পারবে না আমি কখনো কোন মেয়ের দিকে খারাপ নজরে তাকিয়েছি।আমার বাবা আর মা আমায় নিয়ে অনেক গর্ব করতো।অনেক বিশ্বাস করতো।আজ সেই বিশ্বাস আর গর্ব দুটোই শেষ হয়ে যাবে।তাছড়া আমি নেহাকে কি বলবো।আমি কিভাবে ওকে মুখ দেখাবো।ওকি আমায় বিশ্বাস করবে।(নেহা আমার গার্লফ্রেন্ড))

এতক্ষনে নিলার চিতকারে সবাই চলে এসেছে।সবাই বলতে বসির চাচ্চু(নিলার বাবা) আমার বাবা মা আর নিলার বিয়ে উপলেক্ষে আসা কিছু আত্তিয় সজন।

বসির চাচ্চুঃনিলা মা কি হয়েছে তোর প্লিজ দরজাটা খোল।( বসির চাচ্চু মনে হয় ভয় পেয়ে গেছে।আসলে বসির চাচ্চুও আমায় নিজের ছেলের মত ভালোবাসে।)

নিলাঃবাবা প্লিজ আমায় বাচাও।(এদিকে আমি নিলার দিকে তাকিয়ে পুরো অবাক।নিলা ওর শাড়ি পুরো খুলে ফেলেছে।ও ওর ছায়া ব্লাউজ ছিড়ে মাটিতে পরে আছে।এমন ভাব করছে যেন ওকে আমি ধর্ষন করেছি।)

কিচুক্ষন পরেই বাবা আর চাচ্চু মিলে দরজাটা ভেঙে সবাইকে নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো।নিলা উঠে দোউরে গিয়ে ওর বাবার পেছনে লুকালো।

আমিঃ বিশ্বাস কর বাবা আমি কিছু করি নি।(বাবা আমার দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে।আর মা তো মাটিতে বসে পড়েছে।বাবার দেকে তাকাতে পারছি না বাবার ছোখ রক্তের মত লাল হয়ে গেছে।সবাই কেমন চাতক পাখির মত আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি বাবাকে কি বলবো আমার ওপর বাবার এত বিশ্বাস আর ভরশা সব আজ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।)

আমি বাবার পায়ে পরে গেলাম।

আমিঃ বিশ্বাস কর বাবা আ......
(আর কিছু বলতে পারলাম না তার আগেই বাবা আমার গালে চর বসিএ দিলো।বাবার চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরছে।বাবা আমাকে মারতে মারতে বললো...)
বাবাঃ বিশ্বাস আর তুই।বল কেন এমন করলি..?কেন..?কেন তুই আমার সব বিশ্বাস আর ভরশা ধুলোয় মিশিয়ে দিলি।কোন দোসের শাস্তি দিলি তুই আমায়।(বাবা আমায় লাথি।মেরে তার পা থেকে সরিয়ে দিলো।)

(আমি দোউরে মায়ের কাছে গেলাম।আমি মায়ের পা ধরতে যাব তখন মা নিজের পা টা সরিয়ে উঠে ধারালো।মাকে হটাৎ কঠোর মনে হল)

মাঃঅবনী(আমার বড় বোন) ওর জামা কাপড় গুছিয়ে দে।আজ থেকে থেকে আমার শাওন নামের কোন ছেলে নেই।আমি যাতে ওকে আর এই বারিতে না দেখি।

(আমি একি শুনছি...?মা আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে চাইছে....?না মা বাবা ছেরে আমি কোথায় যাবো।মা বাবাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা আমি ভাবতেও পারি না।)
আমি দোউরে গিয়ে মায়ের পা ধরলাম।

আমিঃনা মা দয়া করে আমায় এই শাস্তি দিয়ো না।তোমরা ছারা আমার কে আছে।আমি কোথায় যাবো।(মায়ের পায়ের কাছে বসে বসে)

(মা নিজেকে ছারিয়ে চলে গেল।এদিকে অবনী আপুও ব্যাগ গুছিয়ে হাজির।আমাকে ব্যাগ দিতে দিতে বিললো....)
অবনীঃছি তোকে আমার ভাই বলেও পরিচয় দিতে লজ্জা হচ্ছে।তুই এত নিচ.....!!!

আমি পুরো বাকরূদ্ধ হয়ে গেলাম।কয়েক মুহূর্তে র মদ্ধ্যে কি হয়ে গেল আমার সাথে।একটা ঘূর্ণিঝড় এর মত আমার জীবন টা এলোমেলো হয়ে গেল।আমি ব্যাগ নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পরলাম।পেছনে তাকিয়ে দেখলাম কেউ আসেনি আমার সাথে।যেই বাবা মা আমাকে না খায়িয়ে খেত না সেই বাবা মা আজ তারা আমায় ঘর থেকে বের করে দিল।যে বোন আমায় নিজের চেয়ে বেসি ভালবাস্তো সে আজ আমায় নিচ বলে গালি দিল।আমি আর ভাবতে পারছি না।আমি রাস্ত দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম অজানার উদ্দেশ্যে.....তখনি দেখলাম নেহা(আমার গার্লফ্রেন্ড) দারিয়ে আছে।নেহা হয়তো আমায় বিশ্বাস করবে।আমি নেহার দিকে এগিয়ে গেলাম।
আমিঃনেহা বিশ্বাস কর আমি........ 
(আমি কথা শেষ করার আগেই আমার গালে ঠাস করে বসিয়ে দিলো।আমি পুরো তাজ্জব বনে গেলাম।শেষ পর্যন্ত নেহাও আমায় অবিশ্বাস করলো।)
নেহাঃকি নেই আমার যে তুই শেষ পর্যন্ত ওই মেয়ের সাথে....ছি।তোর যদি এতই চাহিদা থাকতো তুই আমায় বলতি আমি বিয়ের আগেই তোকে সব দিয়ে দিতাম।(বলেই নেহা কাদতে লাগলো।)

(আমি আর কিছু না বলে সামনের দিকে পা বারালাম।এখানে থেকে আর লাভ নেই।এখানে কেও আমাকে বিশ্বাস করবে না।নেহা তো আমার চরিত্র সম্পর্কে জানে।ও কিভাবে পারল আমাকে অবিশ্বাস করতে।আর যেখানে নিজের মা বাবাই বিশ্বাস করে না সেখানে নেহা তো দুরের কথা।না আর থাকবো না এই শহরে আজ রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিবো।)


চলবে.....

মন্তব্যসমূহ