গল্পঃপ্রকৃতির প্রতিশোধ লেখকঃশাওন সিকদার

 গল্পঃপ্রকৃতির প্রতিশোধ

লেখকঃশাওন সিকদার



----বেটা খচ্চর রিকশাওয়ালা।কত্তো বড় সাহস।১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা চায়।তাও এই শুভ্রতার কাছ থেকে।উগান্ডার পেঁচাটাকে করলার জুস খাওয়াতে ইচ্ছে করছে।পেঁচাটার কারণে অফিসে আজ ২০ মিনিট লেইট।ধুর ভাল্লাগেনা।


রিকশাওয়ালার চৌদ্দগোষ্টী উদ্ধার করতে করতে অফিসের এসে পৌঁছালো শুভ্রতা।ভাড়া নিয়ে কাটাকাটি করতে করতে ২০ মিনিট লেইট হয়ে গেছে।বেচারা রিকশাওয়ালা ২০ মিনিট চেস্টা করেও শুভ্রতার থেকে ১০ টাকা বেশি ২০ টাকা নিতে পারলো না।সুখের নীড় বৃদ্ধাশ্রমে ২ বছর ধরে কাজ করে সে।বৃদ্ধ মানুষদের দেখাশোনা করাই তার কাজ।দ্রুত পায়ে অফিসে ঢুকছিলো শুভ্রতা।কিন্ত হঠাৎ ওর চোখ আটকে যায় পাশে থাকা এক দম্পতির উপর।ভেসে উঠলো দুই বছর পুরনো সেই মুখটা। 


নীল!দুই বছর আগে শুভ্রতার ভালোবাসা ছিলো নীল।শুভ্রতা নিজের সবটুকু উজাড় করে ভালোবেসেছিলো নীলকে।কিন্ত একজন ব্যেক্তির কারণে আজ ওর ভালোবাসা অন্যকারো সাথে।নীল ওর স্ত্রীকে একটা কালো প্রাইভেট কারে নিয়ে চলে গেলো।শুভ্রতা মন প্রানে চায় নীল ফিরে আসুক! আবার শুভ্রতাকে ভালোবাসুক আগের মতো করে।আবার আগের মত শুভ্রতার কপালে আলতো করে ঠোট ছুইয়ে দিক।কিন্ত শুভ্রতার সেই অধিকার নেই কারণ নীল আজ অন্যকারো।শুভ্রতার প্রচুর কান্না পাচ্ছে।সে কাঁদতে চায় না। কান্না আই হেট ইউ। আমি তোমাকে ঘৃণা করি কান্না। ঠোঁট কামড়ে ধরে। কিন্তু পারে না। ফুলেফেঁপে উঠা বন্যার পানির পাড় ভাঙার মতোন ঠেলেঠুলে কান্না আসে।


শুভ্রতার মনে অনেক প্রশ্ন।নীল কে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করার আছে শুভ্রতার।আমার চোখে কি মায়া ছিলো না?আমার কি এলো কেশ ছিলো না?আমার ঠোটে কি নেশা ছিলো না?কেন ছেড়ে গেলে আমায়।কেন বেসেছিলে এই ঠুনকো ভালোবাসা যখন ছেড়ে যাবে আমায়।কি দোষ ছিলো আমার?গরিব ছিলাম,অশিক্ষিত ছিলাম।সবই তো জানতে।গ্রহন যখন করতে পারবে না ভালোবেসেছিলে কেন?



শুভ্রতা আর দাঁড়ায় না।ভেতরে চলে আসে।আজকেও অনামিকা আপার ঝাড়ি শুনতে হবে।অনামিকা মুন।এই বৃদ্ধাশ্রমের পরিচালক।চোখ মুছতে মুছতে অফিস রুমে চলে আসে।অনামিকা আপা নিচের দিকে তাকিয়ে কি যেন লিখছে।শুভ্রতাকে দেখে চোখ টা বাকালো।হয়তো কয়েকটা ঝাড়ি দিবে।কিন্ত শুভ্রতার কান্না ভেজা চোখ দেখে দমে গেলো।পরক্ষনেই শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো,


---শুভ্রতা।আজকে নতুন অতিথি এসেছে।পরিচিত হও।

---আচ্ছা ম্যাম


শুভ্রতা দ্রুত চলে যায় কিচেনে।ছোট্ট একটা কিচেন আছে এখানে।একহাতে চোখ মুছে আর আরেকহাতে চা বানায়।কিছুক্ষনের ভেতরই এক কাপ চা বানিয়ে নেয়।শুভ্রতার এখন প্রথম কাজ হলো নতুন অতিথির জীবনের গল্প শুনা।দ্রুত চা নিয়ে চলে যায় নতুন অতিথির রুমে।



কিন্ত নতুন অতিথিকে দেখে শুভ্রতা আরেক দফা অবাক হয়।এতো সেই যার কারনে আজ নীল অন্য কারো।সেদিন এই মহিলার পা পর্যন্ত ধরেছিলো শুভ্রতা নীলকে পাওয়ার জন্য।সারা জীবন কাজের মেয়ে হয়ে থাকার অঙ্গীকারও করেছিলো।কিন্ত সেদিন শুভ্রতার আকাশ বাতাস ভারী করা কান্না মন গলাতে পারেনি তার।সেদিন তো খুব করে বলেছিলো আমার ছেলের জন্য কোন গরীব আর অশিক্ষিত মেয়ে আনবো না।আজ তার শিক্ষিত বউ কি করলো?প্রচুর হাসি পাচ্ছে শুভ্রতার।দুনিয়াটা সত্যিই গোল।প্রকৃতি কাউকে ছাড় দেয় না।প্রকৃতি তার প্রতিশোধ ঠিকই নিয়ে নেয়।সেটা আজ নয়তো কাল।অনেক কষ্টে হাসি আটকে রেখে সাহেরা বেগমের দিকে এগিয়ে গেলো শুভ্রতা।চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে বললো,,


---আসসালামু আলাইকুম আন্টি।কেমন আছেন?


সাহেরা বেগম তাকালো শুভ্রতার দিকে আর শুভ্রতা সাহেরা বেগমের।সাহেরা বেগমের মনে পড়লো সেই অহংকারী অতীতের কথা।সাহেরা বেগম শুভ্ররাদ দিকে তাকিয়ে আছে।আজ তার চোখে ফুটে উঠেছে অনুতাম আর শুভ্রতার চোখে উপহাস।শুভ্রতার মুচকি হাসি যেন তাকে গ্রাস করতে চাচ্ছে।




#সমাপ্ত


মন্তব্যসমূহ