গল্পঃমিথ্যা অপবাদ পার্ট: চৌদ্দ/শেস পার্ট লেখক :শাওন সিকদার
গল্পঃমিথ্যা অপবাদ
পার্ট: চৌদ্দ/শেস পার্ট
লেখক :শাওন সিকদার
,
,
নিলা:বলছি!আসলে ওই দিন(সব গর গর করে বলে দিল!)কিন্ত বিশ্বাস কর আমি এমন করতে চাই নি আমি শুধু তোকে পাওয়ার জন্য এমন করেছি..
.
.
(নিলা কান্না করতে করতে বলছিল!নিলা আমায় জরিয়ে ধরতে যাবে এমন সময় আলমারিটা জোরেসোরে কেপে উঠলো!কিন্ত এরপর যা ঘটলো সেটা দেখে আমি যতটা না অবাক হলাম নিলা তারচেয়ে হাজার গুন অবাক হলো!এককথায় পুরো তাজ্জব বনে গেল!মনে হয় ওকে কেউ 1000ভোল্টের ঝাটকা দিল..)
.
,
নেহা: আর জরিয়ে ধরতে হবে না যেটুকু ভিডিও করেছি তোমায় দোষী প্রমান করার জন্য সেটুকুই যথেষ্ঠ!
.
.
নিল: নে নে নে নে নে নেহা আপু আপনি এখানে ....??
.
.
(হ্যা ভাই আলমারির ভেতর নেহাই লুকিয়ে ছিল!আসোলে ওর প্লান ছিল যে ও আলমারির ভেতর লুকিয়ে থাকবে....আমি যেভাবে হোক নেহার মুখ দিয়ে সব সত্য বের করবো আর ও সেটা আলমারির ভেতর বসেবসে ভিডিও করবে...!তাইতো নিলা যখন আমায় জরিয়ে ধরছিল তখন ইদুর গুলা এমন করছিল,,,🤪🤪)
.
.
নেহা:হ্য আমি এখানে কেন আমায় এখানে আশা করোনি বুঝি..?(আমার দিকে রাগে কটমট করে তাকিয়ে বলল)লুইচ্চা কয়বার জরিয়ে ধরেছিস ওরে তুই..?তোরে তো আমি পরে দেখছি আগে এই শাকচুন্নিটাকে দেখে নেই...
,
,
নিলা:আপু তুমি এসব কি বলছ আর তোমার তো মাথাব্যথা করছিল তুমি এখানে কি করছো...?
.
.
নেহা:ওরে শাকচুন্নি আমি এখানে কি করছি তাই না..?তোর আমার জিনিসের প্রতি এত নজর কেন তোকে তো আজ আমি মেরেই ফেলব(নিলার চুল গুলো মুট করে ধরে...)বল তুই কেন এমন করেছিস ...?তোর জন্য একটা নির্দোশ ছেলে কত কষ্ট পেল..নিজের পরিবার থেকে আলাদা হলো নিজের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হলো..(বলেই নেহা নিলাকে উদোম কেলানি শুরু করলো)
.
.
(নেহা একদম বেশিই উত্তেজিত হয়ে গেল!মনে হচ্ছে আমার হয়ে সব রাগ নেহাই ঝেরে দিচ্ছে!না এবার নেহাকে থামানো দরকার নাহলে নিলার অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে...)
.
.
আমি:নেহা প্লিজ সান্ত হও!ওকে মেরে কোন,লাভ নেই!নিচে বাবা মা আছে ওকে নিয়ে চল সেখানে...!বাবা মা ই ওর বিচার করবে...
.
.
(নিলা একদম তীর বিদ্ধ হরীনির মত আমার দিকে তাকিয়ে রইল!ওর চোখ দিয়ে পানি পরছিল!ও এতক্ষন বুঝতে পারেনি যে এটা আমাদের প্লান ছিল!ও একদম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল!নিলা হয়তো স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি এমন কিছু হতে পারে ...!ওর জন্য আমারও খারাপ লাগছিল কিন্ত করার কিছু নেই!ও আমার সাথে যেটা করেছিল সেটার জন্য আমার জীবন টা পুরো ছাড়খাড় হয়ে গেছে!আমার জীবন ঠিক করতে হলে নিলাকে তো শাস্তি পেতে হবেই!)
.
.
(নেহা নিলার চুল টানতে টানতে নিচে নিয়ে যেতে লাগলো....আমি নেহার পেছন পেছন যেতে লাগলাম.)
.
.
নেহা:আয় শাকচুন্নি আয় আজ তোর আসল রুপ সবাইকে দেখাব আমি..!
.
.
(নিচে বাবা মা সবাই নিলাকে এভাবে দেখে অবাক হলো!সবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল কিন্ত যাওয়ার আগে এমন একটা ঘটনার জন্য কেউ প্রস্তত ছিল না!নিলার বাবা বলে উঠলো..)
.
.
বসির চাচ্চু:একি নেহা হচ্ছেটা কী..?এ কী ধরনের অসভ্যতা..?ছাড় বলছি..
.
.
নেহা: হয়েছে কী সেটা আপনি আপনার এই শাকচুন্নি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করুন!
.
.
(এমন সময় আমিও চলে আসলাম!সবাই এতক্ষন যতটা অবাক না হয়েছে এখন আমায় দেখে তারচেয়ে বেসি অবাক হয়েছে!সবাই মনে হয় একটু একটু আচ করতে পেরেছে কি হয়েছে....!এমন সময় মা বলল,,)
.
.
মা:দেখ নেহা যা বলার সরাসরি বলে ফেল!এত ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলার কিছু নেই!
.
.
নেহা:আপনারা এতদিন আপনাদের ছেলেকে ধর্ষক বলে যানতেন,,কোন রকম যাচ বাছাই না করে এই মেয়েটার কথা শুনে নিজেদের ছেলেকে বাইরে বের করে দিলেন...কেমন বাবা মা আপনারা যে নিজের ছেলেকে বিশ্বাস করতে পারেন নি...!নিজের ছেলের মাথায় ধর্ষক নামের একটা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দিলেন..?আজ আমি বলছি আসোল ধর্ষক কে..?
.
.
(সবাই নেহার কথায় একদম হা করে রয়েছে!সবাই একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে...বিশেষ করে বাবা মা!উনাদের মনে মনে হয় আশার আলো ফুটেছে!নেহা ওর মোবাইলটা বের করে ভিডিওটা ওপেন করে সবার সামনে ধরলো..বাবা মা চাচ্চু সহ সবাই এগিয়ে এল ভিডিওটা দেখতে...)
.
.
নেহা:দেখুন একটা নির্দষ ছেলেকে আপনারা সবাই মিলে কত কষ্ট দিয়েছেন!
.
.
(ভিডিওটা দেখার পর সবার মুখ একদম হা হয়ে গেল!মনে হয় উনারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না নিলার মত মেয়ে এমন কাজ করতে পারে!বাবা মায়ের চোখে পানি চলে আসলো কিন্ত উনারা কোন কথা বলতেই পারছিল না!মনে হয় উনারাও এখন অনুতাপের আগুনে পুরছেন!তাই হয়তো কিছু বলতে পারছেন না!বলবেন ই বা কেমন করে!আমার সাথে যা করেছেন সেটা একটু বেশিই হয়ে গেছিল!ওইদিকে বসির চাচ্চু তো মাথায় হাত দিয়ে বসে পরলো!আসলে কয়েকমাস আগে একটা ধাক্কা খেয়েছিলেন এখন আবার তারচেয়ে বর একটা ধাক্কা খেলেন!উনি আসলে টাকার চেয়ে সম্মান টা বেসিই গুরুত্বপূর্ন মনে করেন!আর নিলার এই কাজটা সোজা উনার আত্মসম্মানে লেগেছে!বাবা মা তো পুরো নির্বাক হয়ে গেল!উনারা মনে হয় আমাকে কিছু বলতে লজ্জা পাচ্ছেন!আমিই বললাম...)
.
.
আমি:কিগো মা কি গো বাবা এখনো আমায় বিশ্বাস করতে পারো নি...?থাক আমি চলে যাচ্ছি...
,
,
(এবার মা আর থাকতে পারলো না!শত হলেও মায়ের মন!বেশিক্ষন আটকে রাখা যায় না!মা আমায় জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করলো!সে কি বুক ফাটা কান্না!মনে হয় অনেক কিছু বলতে চায় কিন্ত বলতে পারছে না.....!আসলে সব কথা বলা লাগে না এমনিতেই বুঝা যায়...!বাবা তখনো দারিয়ে ছিল বাবার ও চোখ দিয়ে পানি পরছিল!মায়ের কান্না দেখে উপস্থিত সবার চোখ টলমল করছিল!আমি নেহার দিকে তাকিয়ে দেখলাম নেহা হাসছেও আবার কাদছেও..!একেই বোধহয় বলে সুখের কান্না!আমি মাকে জরিয়ে ধরলাম!এমন সময় বসির চাচ্চু বলে উঠলো...)
.
.
বসির চাচ্চু:এই মেয়ের কোন,ক্ষমা নেই...!না না এ আমার মেয়ে হতে পারে না..!আমি এই মেয়েকে কখনোই ক্ষমা করবোনা...আমি একে এক্ষুনি পুলিশে দিব...
.
.
(চাচ্চু কেমন যানি পাগলের মত করছিল..আব্বু গেল চাচ্চুকে থামাতে,,,,)
.
.
আব্বু:দেখ বসির পাগলামো করিসনা,,,যা হওয়ার হয়ে গেছে,,,যেতে দে,
,
,
চাচ্চু:না ভাইয়া আজ তুমি আমায় থামাতে পারবে না..!ওর মত অপরাধীর কোন ক্ষমা নেই!
,
,
(বসির চাচ্চু পুলিশে কল করলো! কিছুক্ষনের ভেতর পুলিশ এসে নিলাকে নিয়ে গেল!যদিও এতে বাবা বা মা কারোই মতামত ছিল না!তারপর আর কী ..!আমি বাবা মায়ের সাথে বাইরে চলে আসলাম!বাবা একটা মাইক্রো আনলো..উদ্দেশ্য আবার বারি ফিরে যাব!এমন সময় অনিক বলল...)
.
.
অনিক:আচ্ছা শাওন তুই কিছু মিস করছিস না তো..?
.
.
আমি:মানে..??
(মানে বলতেই আমার খেয়াল পরলো নতুন বাবা মায়ের কথা!ওহ শিট আমি এতটা স্বার্থপর কী করে হতে পারি...!নতুন মা তো দারিয়ে দারিয়ে সব দেখছিল!কই উনি আর তো সামনে আসেন নি..!উনি হয়তো ভেবেছেন আমি চলে যাব!না এটা কখনোই হতে পারে না!আমি উনাকে আমার মায়ের স্থান দিয়ে ফেলেছি!আমার জন্মদাত্রী মা যদি আমার মা হয় তাহলে উনিও আমার মা!নাহ আমি উনাদের ছেড়ে যেতে পারবো না.!আমি বাবা মা কে বললাম...)
.
.
আমি:বাবা মা তোম্রা যাও আমার এইদিকে একটু কাজ আছে...
.
.
মা:তোর আবার কী কাজ বাবা..বারি যাবি না..
.
.
আমি:আসলে মা আমি এইদিকে একটা ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি!সামনের সপ্তাহে ছুটি আছে তখন বারি যাব!
.
.
মা:কিন্ত,,,,
,
,
অনিক:কোন কিন্ত নয় আন্টি!আপনারা চলুন আমি আপনাদের সব ঘটনা বলছি.!(আমায় বললো)আরে তুই দেখছিস কি তারাতারি যা!
.
.
(এমন সময় নেহাও গাড়ি থেকে নেমে গেল..!)
.
.
নেহা:আমিও থাকবো তোমার সাথে..
,
,
মা:কিন্ত তুমি ওর সাথে থেকে কী করবা!
,
,
অনিক:আরে আন্টি সেটা অনেক বড় ঘটনা আমার সাথে চলুন আমি বলছি...!
.
.
(বাবা মা চলে গেল!আমি আর নেহা বারির ভেতর গেলাম!বারিটা কান্নার শব্দে বিষাদময় হয়েছে!নতুন মায়ের বুক ফাটা কান্না পুরো বাড়িতে প্রতিদ্ধন্নিত হচ্ছে!মা মনে করেছে আমি উনাদের ভুলে চলে গেছি!আমি উনাদের রুমের সামনে গেলাম!দেখি মায়ের সে কী গগন বিদারী চিতকার!মায়ের কান্না দেখে আমার নিজেরই কান্না চলে এসেছে!নেহাতো ইতিমধ্য কান্না করেই দিছে!! দেখলাম বাবা মাকে সান্তনা দিচ্ছে আর বলছে...)
.
.
বাবা:দেখ সালমা এটা তো হওয়ারই ছিল!সেতো আমাদের ছেলে নয় যে আমাদের কাছে থেকে যাবে!যাদের ছেলে তারা নিয়ে গেছে!এতে আমাদের করার কিছু নেই!
.
.
(মায়ের কান্না থামছেই না!মায়ের কান্না দেখে আমার চোখটা ছল ছল করে উঠলো!আমি ছল ছল চোখে গিয়ে মায়ের সামনে দারালাম!মা আমাকে দেখে অবাক হলো!তারাতারি নিজের কান্না থামিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো!চোখ মুছতে মুছতে আমায় জিজ্ঞেস করলো...)
.
.
মা:একি শাওন তুমি যাও নি..?
.
.
আমি:আমায় তাড়িয়ে দিচ্ছ মা...?
.
.
মা:না মানে...
.
(আমি গিয়ে মায়ের পায়ের পাসে বসলাম!মায়ের দিকে ছল ছল চোখে তাকিয়ে বললাম...)
.
.
আমি:তুমি কি করে ভাবলে তোমার ছেলেটা তোমায় ছেড়ে চলে যাবে..?এতটা পর ভাবো,আমায়...?
,
,
(মা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল!মনে হয় এখনো বুঝতে পারেনি আমি কি বলতে চাচ্ছি..)
.
.
আমি:আমি তোমাদের ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না!আমি যতদিন বেচে থাকব তত দিন তোমাদের ছেলে হয়েই বেচে থাকব!
.
.
(এবার মনে হয় মায়ের কলিজায় পানি আসলো!মা আমায় জরিয়ে ধরলো!আমায় জরিয়ে ধরে আবারো সেই গগন বিদারী কান্না!এবারের কান্নাটা দু:খের কান্না নয় এবারের কান্নাটা সুখের কান্না!আমি কখনো বাবাকে গলা ছেড়ে কাদতে দেখি নি সর্বোচ্চ চোখের কোনে পানি আসতে দেখেছি!কিন্ত সেই বাবাও আজ গলা ছেড়ে কান্না করছে...মা আমায় জরিয়ে ধরে কাদতে কাদতে বললো...)
.
.
মা:দেখেছ আমি বলেছি না আমার ছেলেটা আমায় ছেড়ে চলে যেতে পারে না!তুমি সুধু সুধু এতক্ষন আমায় কষ্ট দিলে!
,
,
(বাবাও আমায় জরিয়ে ধরে কান্না শুরু করলো...!!এদিকে নেহাও কান্না করে দিয়েছে!কিছুক্ষ
.
.
মা:একি নেহা তুমি এখানে কেন ...?তুমি যাও নি..
.
.
নেহা:না মানি চাচি.
.
.
আমি:দারাও আমি বলছি...আসোলে মা কীভাবে যে বলি!(আমি একটু লজ্জা পেলাম..)
.
.
মা:আচ্ছা আমি যা ভাবছি তাই কি ঠিক..?
.
.
আমি:আসলে...
.
.
মা: তারমানি নেহাকি আমার পুত্রবধূ হতে চলেছে...
.
.
(ধুর মা তো সব আগেই বুঝতে পেরেছে!আমি লজ্জায় মায়ের আচলে মুখ লুকালাম...)
.
.
(মা আর বাবা দুজনেই আমার অবস্থা দেখে,হো,হো করে হেসে দিল!মুহূর্তেই কান্না মাখা মুখ দুটোতে হাসি ফুটে উঠলো!আবার সব সাভাবিক হয়ে উঠলো!মা বলল...)
.
.
মা:তা নেহা মেয়ে হিসাবে মন্দ না আমার কিন্ত ভারী পছন্দ হয়েছে...!
.
.
(এদিকে নেহা তো লজ্জায় পুরো লাল হয়ে গেছে..)
.
.
(মা নেহাকে ডাক দিল...)
.
.
মা:দেখি নেহা এদিকে আয় তো মা,,,,
.
(নেহা মায়ের পাশে গিয়ে বসলো...মা তার গলার হার টা খুলে নেহার গলায় পরিয়ে দিল!নে মাকে জরিয়ে ধরলো...)
.
.
নেহা:চাচি তুমি অনেক ভালো...
.
.
মা:একি নেহা আমি এখন আর তোমার চাচি নেই!আমি এখন থেকে তোমার মা!আজ তেকে আমায় শাশুরি আম্মা বলবা!
.
.
(মায়ের কথা শুনে আমি আর বাবা হো হো করে হেসে উঠলাম....তারপর আর কী,,,এক সপ্তাহ পর আমি নেহা আর নতুন বাবা মা আমদের বাড়িতে গেলাম!সেখানে ধুম ধাম করে আমাদের বিয়ে হলো!বিয়ের সব খরচ নতুন বাবাই দিল!নেহাকে ভাগ্যবান বলতে হবে অনেকের কপালে একটা শশুর বারি জোটে না কিন্ত নেহার কপালে দুই দুইটা শশুর বারি জুটলো!আমি নেহা আর দুই দুই জোরা বাবা মা নিয়ে আমার জীবন ভালোই চলছিল....)
.
.
.
.
.
.
.
.
(((((((((((((((

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন