গল্পঃমিথ্যা অপবাদ পার্টঃ৩ লেখকঃশাওন শিকদার

 গল্পঃমিথ্যা অপবাদ

পার্টঃ৩
লেখকঃশাওন শিকদার




আজ আমি রওনা হোলাম নতূন জীবনের উদ্দেশ্য।কাল থেকে আমার নতুন জীবন শুরু।

টানা ৫ ঘন্টা যার্নি করার পর আমি পোউছালাম ঢাকা।আমি আগেও বাবার সাথে কয়েকবার ঢাকা এসেছিলাম কিন্ত এইবার প্রথম একলা আসলাম।কেমন যেন একটু ভয় ভয় লাগছিল।কিন্ত অতটাও ভয় লাগছিল না।কারন অনিক এর চাচ্চু এর বাসায় গিয়ে উঠবো তাই থাকার কোন চিন্তা নেই।কিন্ত মনটা অসম্ভব খারাপ লাগছে।মাত্র একটা দিন কয়েকটি মুহূর্ত আমার পুরো জীবনটাই বদলে দিল।কালকেও ছিলাম বাবা মায়ের আদরের একমাত্র সন্তান।কিন্ত আজকে মাত্র একদিনের ভেতর জীবন টাই পুরো বদলে গেল।যেই বাবা মা আমাকে না খাইয়ে খেত না আজ হয়তো সেই বাবা মায়ের মনে আমার জন্য সুধু ঘৃনা ছারা আর কিছু নেই।


নিলা সত হলেও আমি ওর চাচাতো ভাই।ও কিভাবে পারলো আমার জীবনটাকে এভাবে ধ্বংস করতে।

বাস স্টান্ডে দারিয়ে এসব ভাবতে ভাবতে চোখে পানি চলে এসেছে।
হঠাৎ কিছুর শব্দে ধ্যান ভেঙে গেল।দেখি একজন অটোওয়ালা দারিয়ে আছে।
আমি ওনার কাছে গিয়ে দাড়ালাম আর বললাম......

আমিঃমামা যাইবেন....?

অটোওয়ালাঃকই যাইবেন...?

আমিঃ(অনিক এর দেওয়া ঠিকানা টা দিয়ে বললাম)এই ঠিকানায় যেতে হবে...?কত নিবেন...?

অটোওয়ালাঃ(আমার দিকে একবার অদ্ভুত ভাবে তাকাল তারপর ঠিকানাটা দেখে)১০০ টাকা লাগবো মামা।

আমিঃ(ভাবলাম দুরে হবে তাই বেসি চেয়েছে)আচ্ছা চলেন।

(মাত্র ২ মিনিট পর চলার পর অটোওয়ালা একটা যায়গায় এসে দারাল।)

আমিঃএত তারাতারি!!!!!!(এইটুকু পথ তো হেটেই আসতে পারতাম।এইটুকু পথ এক জন্য ১০০ টাকা ভাড়া😈😈😈)

অটোওয়ালাঃহ মামা এইটাই আপনার ঠিকানা।

আমিঃ এইটুকু পথ এক জন্য ১০০ টাকা ভাড়া😈😈😈

অটোওয়ালাঃমামা আমি তো আপনারে আগেই কইয়া লইছি।

আমিঃ( অটোওয়ালা মনে হয় আগেই বুঝতে পেরেছিল আম এই যাগায় নতুন তাই সে সুযোগ নিল
আমি আর বারাবারি না করে ভাড়া দিয়ে দিলাম।এমনিতেই মন ভালো নেই)আচ্ছা মামা নেন।

এইবার বাড়ির নম্বর মিলিয়ে বারিটা খুজতে লাগলাম কিন্ত পাচ্ছিলাম না।অনেক খন খুজলাম কিন্ত পেলাম না।হঠাৎ দেখলাম একজন লোক আসছে ভাবলাম যাই ওনাকে জিজ্ঞেস করি।

আমিঃএই যে চাচা শুনছেন..?

লোকঃকিছু বলবেন....?

আমিঃ(বাড়ির নাম্বারটা দেখিয়ে)এই বাড়িটা কোথায়....?

লোকঃ(নাম্বার টা দেখে)এইদিকে নতুন...???

আমিঃজি

লোকটাঃআসেন আমার সাথে....

(আমি লোকটার পেছন পেছন যেতে লাগলাম।লোকটা হঠাৎ একটা বিশাল বাড়ি না বাড়ি বললে ভুল হবে যেন একটা রাজপ্রাসাদ এর সামনে দারালো)

লোকটাঃ(বাড়ির দিকে ইশারা করে)এই আপনার বাড়ি।

আমিঃধন্যবাদ(লোকটা চলে গেল)

(আমি অবাক হয়ে দাড়িয়ে দেখছি।এইরকম বাড়ি তো আমি সাধরনত ছবি তে দেখি।আচ্ছ লোকটা আমায় ভুক ঠিকানায় নিয়ে আনলো নাতো....??না লোকটাকে তো স্থানীয় ই মনে হল।তাহলে কি অনিক আমায় ভুল ঠিকানা দিল।ওকে একবার কল করি....)

(কিছুক্ষন কল হওয়ার পর অনিক কল ধরলো)

আমিঃহ্যালো অনিক।

অনিক ঃকিরে বাড়ি খুজে পাইছোস....?

আমিঃভাই তুই এইটা কি ঠিকানা দিলি।মনে হয় একটা রাজপ্রাসাদ এর সামনে দাড়িয়ে আছি।আচ্ছা তুই আবার ভুল ঠিকানা দিলি নাতো....??

অনিকঃআরে না সালা তুই একদম ঠিক যায়গায় এসেছিস।শোন ভেতরে গিয়ে দাড়োয়ানকে বলবি হানিফ চাচার(অনিকে এর চাচ্চু) সাথে দেখা করতে চাস।তারপর হানিফ চাচা এলে বলবি আমায় অনিক পাঠিয়েছে।আর কিছু বলা লাগবে না।আমি ওনাকে সব বলে রেখেছি।তোর কোন সমস্যা হবে না।

আমিঃ তুই কি সব বলেছিস।উনি কিছু মনে করবে না...??

অনিকঃআরে সালা না।উনি আমায় সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে।আমি উনাকে বুঝিয়ে বলেছি।তুই যা সালা।ভয় পাস না।আমার উপর ভরসা রাখ।

আমিঃআচ্ছা।।

(আমি অনেকটা ভয় নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম।তখনি এক বশালদেহী দাড়োয়ান এর আগমন।এসেই আমায় জিজ্ঞেস করলো.....)

দাড়োয়ানঃকাকে চাই।

আমিঃআ আ আ আসলে আমি হা হা হা হানিফ চাচা এর সাথে দেখা করতে চাই।

দাড়োয়ানঃকেন কী দরকার ওনার সাথে....?

আমিঃআসলে উনার সা......
(এমন সময় পেছন থেকে মধ্যবয়স্ক একটা লোক এল।)

দাড়োয়ানঃস্যার এই ছেলেটা আপনার সাথে দেখা করতে চায়।

(ও ও ও তাহলে উনিই অনিক এর হানিফ চাচ্চু)

আমিঃআসসালামু আলাইকুম।আমি শাওন আমাকে অনিক পাঠিয়েছে আপনার কাছে।

হানিফ চাচাঃও ও তুমিই সেই শাওন।অনিক আমাকে বলেছিল তোমার ব্যাপারে।আসো আসো ভেতরে আসো।

আমিঃআচ্ছা।
(আমি বাধ্য ছেলের মত ওনার পেছন পেছন ঘরে গেলাম।উনি আমায় এক্টা রুমে নিয়ে গেলেন।বিশাল একটা রুম।)

হানিফ চাচাঃএইটা হলো তোমার রুম আজ থেকে তুমি এইখনে থাকবা।

(এত বড় রুম।অনেক দামি দামি ফার্নিচার দিয়ে সাজানো।খুব সুন্দর করে গোছানো।মনে হয় আমি আসবো সুনে গুছিয়ে রেখেছে।প্রথম দেখায় এত সুন্দর ব্যাবহার। উনি সত্যিএ একজন মহত মানুষ।আসলে উনার কোন সন্তান নেই তাই হয়তো উনি এত উদার)

হানিফ চাচাঃশাওনা তুমি আমায় চাচ্চু বলে ডাকতে পার।

আমিঃচাচ্চু আপনেকে অনেক.....
(কথা সেস করার আগে উনি বলে উঠলেন)

হানিফ চাচাঃএখন আর কোন কথা নেই মাই বয়।তুমি আসবে সুনে তোমার চাচি রান্না করছে।তারাতারি ফ্রেস হও।খেয়েদেয়ে কথা হবে।
(বলেই উনি চলে গেলেন।বাহ এত বড় একটা রুম আমার একার।ভালোই হল।সাথে ওয়াসরুম ফিটা করা।আমি ঘুরে ঘুরা রুমটা দেখছিলাম এমন সময় অনিক আবার ফোন দিল।আমি রিসিভ করলাম।)

অনিকঃকিরে ভেতরে ঠিকমত আসতে পারছোত।

আমিঃহ্যা।

অনিকঃআচ্ছা তাহলে তুই এখন ফ্রেস হ আমি রাতে কল দিব।

আমিঃআচ্ছা।

(আমি ফ্রেস হয়ে বের হলাম।এমন সময় একজন এসে ডেকে গেল খাওয়ার জন্য।আমি গেলাম।গিয়ে দেখি উনাদের ডাইনিং রুমটা বিশাল বড়।টেবিলে মিনিমাম ১০ পদ সাজিয়ে রাখা আছে।হানিফ চাচা আর উনার স্ত্রী আমার জন্য বসে আছেন।উনাদের দেখে আমার মা বাবার কথা মনে পড়ে গেল।)

হানিফ চাচাঃবস বাবা।তোমার চাচি তোমার জন্য নিজ হাতে রান্না করছে।

আমিঃ(মা বাবার কথা মনে পরায় মন্টা একটু খারাপ) নিশ্চুপ

আন্টিঃকি হলো বাবা কথা বলছো না যে...?

হানিফ চাচাঃআহ সালমা ছেলেটার ওপঅর দিয়ে এত বড় একটা বিপদ গেল তাই হয়তো ওর মন খারাপ।ওকে একটু একা থাকতে দাও।আন্টি একটু মন খারাপ করলো।

আমিঃনা না চাচ্চু কোন সমস্যা নেই।

(এমন সময় আমার ফোনটা বেজে উঠলো।কে ফোন দিল সেটা দেখার জন্য ফোন নিলাম।ফোনাটা হাতে নিয়ে আমি অবাক হয়ে গেলাম।নিলা ফোন দিছে।এখন কেন ফোনা দিছে।আমার সবই তো শেষ করে দিল।এখন আবার কেন ফোন দিল।)

হানিফ চাচাঃকি হল বাবা কে ফোন দিল....?

আমিঃচাচ্চু নিলা ফোন দিছে...!!!





চলবে.....

মন্তব্যসমূহ