গল্পঃবেলা শেষে লেখকঃশাওন সিকদার পর্বঃ২
গল্পঃবেলা শেষে
লেখকঃশাওন সিকদার
পর্বঃ২
ওরা দুজন ঘোরের মধ্যে আটকে গেলেও ব্যাপারটা নিবির ভাবে পর্যবেক্ষন করছে আরো একজোড়া চোখ।বেশ কিছুক্ষন ধরে ইমতিয়াজ সাহেব লক্ষ করছেন ওয়েটার আর সিমি একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে।যা কোন সাধারন তাকিয়ে থাকা না।দুজনে পুরো ঘোরের মধ্যে চলে গেছে।পারিপার্শ্বিক পৃথীবি থেকে খনিকের জন্য আলাদা হয়ে গেছে দুজন।ব্যাপারটা আসেপাশের কেউ খেয়াল না করলেও ইমতিয়াজ সাহেবের খুব খটকা লাগছে।সিমির চোখে পানি।এখানে সিমির চোখে পানি আসার মত কারন উনি খুজে পাচ্ছেন না।ব্যাপার টা খোলাশা করা দরকার।
ইমতিয়াজ সাহেব ওদের ঘোর ভাঙানোর জন্য একটু শব্দ করে কেশে উঠলেন।
-----উহুম,উহুম।
ইমতিয়াজ সাহেবের হস্তক্ষেপে ঘোর ভেঙে গেল দুজনের।শাওন তরিঘরি করে চোখের পানি মুছে নিলো।নিজেকে সামাল দেওয়ার চেস্টা।সিমিও আচল দিয়ে চোখের পানি মুছে নিল।এতক্ষনে দুজনের খেয়াল হলো তারা কি করছিলো।ইমতিয়াজ সাহেবের সামনে এমন একটা পরিস্থিতি। সিমি একটু লজ্জায় পরে গেল।
ইমতিয়াজ সাহেব আবার প্রশ্ন করলেন,,,,
-----কি ব্যাপার সিমি,এভাবে তাকিয়া ছিলে!!তোমরা কি আগে থেকে একে অপরকে চিনো??
সিমি নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।কোন জবাব নেই।সে এখনো কিছুটা ঘোরের ভিতর আছে।এত বছর পর বহু কাঙ্খিত মানুষটির দেখা।এখনো সামলে উঠতে পারে নি।ইমতয়াজ সাহেব খানিকটা বিরক্ত হলেন।আবার জিজ্ঞেস করলো
-----কি ব্যাপার সিমি কথা বলছো না কেন?
সিমি এখনো নিশ্চুপ।ইমতিয়াজ সাহেব ব্যাপারটা আরো ঘোলাটে করে তুলছে।শাওনের কাছে বিরক্তিকর লাগছে।সিমি যার দিকেই তাকিয়ে থাকুক তাতে এনার এত মাথাব্যথা কেন??পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য শাওন নিজেই বলে উঠলো,,,
-----না না স্যার,আপনি এসব কি বলছেন?ম্যাডাম আমাকে চিনবে কীভাবে।আমি তো উনাকে আজ প্রথম দেখলাম।উনিও মনে হয় এর আগে আমায় দেখেন নি।
কথাটা ইমতিয়াজ সাহেবের ঠিক হজম হলো না।অচেনা মানুষ একে অপরের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকে? তাও এতক্ষন ধরে?শাওনের কথায় অবাক হলো সিমি।দুনিয়ার সব বিশ্ময় তার চোখে মুখে।চার বছর পর দেখা তাদের।শাওন কেন তাকে চিনতে পারছে না।নাকি না চেনার ভান করছে?ওর চোখের পানি স্পষ্ট বলে দিচ্ছে ও এখনো সিমিকে ভুলতে পারে নি।আবারো অবাক নয়নে তাকিয়ে আছে সিমি।এটা কি সত্যিই শাওন।সিমির চোখ দুটো আবারো বাধ ভাঙার অপেক্ষায়।
শাওন আরো একবার তাকালো সিমির দিকে।সিমি আবারো শাওনের ঘোরে আটকে গেছে।আর ইমতিয়াজ সাহেব খালি অবাকের উপর অবাক হচ্ছে।একবার শাওনের দিকে তাকায় তো একবার সিমির দিকে।এখনো ব্যাপারটা সে বুঝতে পারে নি।সে এখনো বুঝার চেস্টা করছে ব্যাপারটা কী।
------------------------------
শাওন লক্ষ করলো সে এখানে থাকলে ব্যাপারটা আরো ঘোলাটে হবে।তার এখুনি এখান থেকে সরে যাওয়া উচিত।শাওন বললো
-----স্যার,আপনারা জাস্ট দুই মিনিট বসুন।আমি এক্ষুনি কফি নিয়ে আসছি।
শাওন দ্রুত চলে গেলো।।সিমি তাকিয়ে আছে শাওনের চলে যাওয়ার দিকে।
ম্যানেজারের যেখানে বসে তার পাশেই রান্না ঘর।রান্নার দায়িত্বে আছে কয়েকজন।হালিম চাচা তাদের অন্যতম।শাওন হালিম চাচাকে দুটো কফির কথা বলে একপাশে হেলান দিয়ে দাড়ালো।সে এখনো ব্যাপারটার সাথে মানিয়ে উঠতে পারে নি।চার বছর পর আবার সেই মানুষটার মুখোমুখি।যার সাথে চার বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল।কিন্ত ভাগ্যের কারনে তাদের মিলন হয় নি। অনেক জিনিস এখনো শাওনের বুঝার বাইরে।সিমি তো লন্ডন ছিলো,আর সিমির বাড়ি তো গ্রামে,ঢাকায় কি করছে?তাও এই পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসরের সাথে।আর আজকে যা বুঝলো এই প্রেফেসর সিমিকে প্রপোজ করবে।আর ভাবতে পারছে না শাওন।ওর সামনেই ওর বিবাহিত বউকে অন্য কেউ প্রপোজ করবে।আর সেই প্রপোজের ব্যবস্থা সে নিজেই করে দিয়েছে।রাগ আর দ্বিধা দুটোই কাজ করছে।যদিও চার বছর পর সিমির সাথে দেখা।কিন্ত অনুভূতি গুলো এখনো আগের মতই জীবন্ত।আর শাওন যতটুকু বুঝলো সিমির মনে এখনো শাওনই আছে।কিন্ত এই প্রফেসর?মাথা ধরে আসছে,আর ভাবতে পারছে না শাওন।এমন সময় হালিম চাচার ডাক,
-----শাওন আছো?
হকচকিয়ে উঠলো শাওন।
-----হ্যা হ্যা চাচা আছি।কফি রেডী?
-----হ্যা কফি রেডী।এই নাও।
শাওন কফির কাপ দুটো নিলো।কালচে কফির ভেতর সাদা সাদা বুদবুদ।কফির ঘ্রান টাও তাজা আর খুব কড়া।যেমনটা সিমির জন্য শাওনের অনুভূতি। শুধু পার্থক্য স্থায়িত্বে। কফির তাজা ঘ্রান কিছুক্ষন পরেই হারিয়ে যাবে।কিন্ত শাওনের অনুভূতি আজ চার বছর ধরে সেই আগের মতই জীবন্ত।চার বছরে একটুও কমেনি, বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে।
কফির কাপ নিয়ে ম্যানেজারের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শাওনের ডাক পড়ল।ম্যানেজার ডাকছে
-----শাওন শুনো,,
-----জী স্যার বলুন।
-----ওদের কাছ থেকে বাকি টাকা টা এখনি নিয়ে আসো।আমার এখন বেরোতে হবে।
-----কিন্ত স্যার ওরা তো মাত্রই আসলো,আগে টাকা নেওয়া কি ঠিক হবে?
-----আরেএএএ বুঝিয়ে বলবে,আমার সমস্যার কথা বুঝিয়ে বললে না করবে না, যাও।
-----কিন্ত স্যার,,,,
-----আরে ধূর। কি কিন্ত কিন্ত লাগিয়ে রেখেছো?রেস্টুরেন্ট টা তোমার না আমার?কাজ করতে এসেছো কাজ করো,আর কাজ না করতে মন না চাইলে বিদেয় হও।যত্তসব।
আজকে মনে হয় শাওনের দিনটাই খারাপ।সবার ঝারি শুনতে হচ্ছে,তাও বিনা কারনে।ম্যানেজার সাহেব মাঝে মাঝেই এমন রেগে জান।তখন উল্টাপাল্টা বলে ফেলেন।কিন্ত পরে আবার ক্ষমা চেয়ে নেন।এমন ভাবে ক্ষমা চান যে না হেসে আর থাকা যায় না।আজকে সত্যিই মনে হয় ম্যানেজারের তারা আছে,নইলে ম্যানেজার রেস্টুরেন্ট ছেড়ে খুব কমই বের হয়।
------------------------------
সিমি এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি।ইমতিয়াজ সাহেব সিমির দিকে তাকিয়ে আছে।আর সিমি অন্যমনস্ক হয়ে কি যেনো ভাবছে।ইমতিয়াজ সাহেব কিছু বলবে কিনা দ্বিধান্বিত অবস্থায় আছে।সিমিকে দেখে মনে হয় বেশি সিরিয়াস কিছু হয়েছে।কিন্ত এই পাচ মিনিটে ওয়েটারের সাথে দেখা হওয়া ছাড়া সিরিয়াস হওয়ার মত কিছু ঘটে নি যার জন্য সিমি এত সিরিয়াস হতে পারে।তবে কি ওয়েটার আর সিমি একে অপরকে চিনে?তাদের কোন সম্পর্ক আছে?না না তা কীভাবে হতে পারে?সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসরের সাথে একজন সামান্য ওয়েটারের কিভাবে সম্পর্ক থাকতে পারে।ইমতিয়াজ সাহেব নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছে আবার নিজেই উত্তর দিচ্ছে।উনি আর ভাবতে পারছে না,পাগল হওয়ার মত অবস্থা।এইদিকে সিমিও অন্যমনস্ক হয়ে কি যেন ভাবছে।নাহ আগে সিমির খোজ নেওয়া উচিত।
-----সিমি,কি হয়েছে তোমার?হঠাৎ এমন করছো কেন?
-----সিমি নিশ্চুপ
-----সিমি তুমি ঠিকাছো?শরীর খারাপ করছে?
-----নাহ ইমতিয়াজ আমি ঠিকাছি।মাথাটা একটু ব্যাথা করছে।আজ তাহলে যাই অন্যদিন আবার কথা হবে।
ইমতিয়াজ সাহেব নিশ্চুপ হয়ে গেলো।এইতো দশ মিনিট আগেও মেয়েটা কি হাসি খুশি ছিলো,এই দশ মিনিটে এমন কি হয়ে গেল যে ও চলে যেতে চাইছে?আজকে ১৪ ই ফেব্রুয়ারী। পুরো ছয় মাস অপেক্ষা করেছে ইমতিয়াজ সাহেব এই দিনটার জন্য।আজকে সে সিমিকে তার মনের কথা জানাতে চেয়েছিলো।অনেক পরিকল্পনা ছিলো আজকের দিনটা নিয়ে।সিমি এভাবে চলে গেলে সব পরিকল্পনা মাটি হয়ে যাবে।না না এভাবে সিমিকে যেতে দেওয়া যাবে না।
এমন সময় শাওন কফি নিয়ে হাজির,,,সিমি চলে যেতে গিয়েও গেলো না।শাওনের আসা দেখে আবার বসে গেলো।ইমতিয়াজ সাহেব আবার সিমির দিকে তাকালো।তার মাথায় অনেক প্রশ্ন,কিন্ত এখন জিজ্ঞেস করার সময় না।আপাতত সিমিকে শান্ত করাই তার উদ্দেশ্য।
শাওন ম্যানেজারের কথা ভাবছে,এত দ্রুত কি বিল চাওয়া ঠিক হবে?কি করার,চাকরি বাচাতে হলে ম্যানেজার যা বলে তাই করতে হবে।তাই শাওন আর ইতস্তত না করে বলেই দিলো,
-----স্যার,ম্যানেজারের একটু তাড়া আছে,বাকি বিলটা এখন দিয়ে দিলে ভালো হয়।
সিমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছে শাওনের দিকে,এই কি সেই মানুষটা?কীভাবে সম্ভব এত পরিবর্তন? চার বছরে এত পরিবর্তন। অবশ্য চার বছর কম সময় না কিন্ত সেটা সিমিকে বুঝাবে কে?এখন সিমির মাথায় কি কাজ করছে সেটা সে নিজেও জানে না।কিভাবে পারে একটা মানুষ এতটা শান্ত থাকতে।চার বছর আগে তো পুরো গ্রামের সামনে বলেছিলো,ভালোবাসি।মৃত্য মুখে দাঁড়িয়ে যে বলতে পারে ভালোবাসি তার আজ এমন কি হলো?উফ এখানে আর থাকা সম্ভব না সিমির পক্ষে।সিমি উঠে গেলো,,
----ইমতিয়াজ,আমি চলে যাচ্ছি।মাথা ব্যাথা টা বেড়ে গেছে।তুমি প্লিজ কিছু মনে করো না,,,
-----সিমি,কি হয়েছে,দাড়াও,,,
সিমি দরজার চলে যাচ্ছে,,ইমতিয়াজ সাহেবও পেছনে যাচ্ছে সিমিকে আটকানোর জন্য।কিন্ত ইমতিয়াজ সাহেব চলে গেলে বিল দিবে কে?ম্যানেজার তো এখনি বললো বিল নিয়ে আসতে,আজকে ম্যানেজারের মাথা যা গরম কাজ না হলে চাকরি থাকবে না নিশ্চিত।নাহ,বিলটা আরো একবার চেয়ে দেখতে হবে,শাওন বললো,
-----স্যার বিলটা দিয়ে যান প্লিজ,,
-----ঠাসসসসসস
ইমতিয়াজ সাহেব ঠাস করে এক চর বসিয়ে দিলো শাওনের গালে।
-----সালা ছোটলোকের বাচ্চা,টাকা ছাড়া কিছু বুঝিস না।মানুষ না অন্যকিছু তোরা।দেখতে পাচ্ছিস এখানে ব্যক্তিগত সমস্যা চলছে তারমাঝে টাকা টাকা করে পাগল করে দিচ্ছিস।মনুষ্যত্ব বলতে কিছু আছে তোদের?
শাওন গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে।কিছু বলার নেই তার,সত্যিই সে খারাপ করেছে।এমন পরিস্থিতিতে টাকা চাওয়া উচিত হয়নি তার।কিন্ত ম্যানেজারের প্যারা এদের কে বুঝাবে।কিন্ত একদিকে ভালোই হলো,এখন ম্যানেজারকে বলতে পারবে আমি টাকা চেয়েছিলাম,বিনিময়ে চর পেয়েছি।অন্তত চাকরি টা তো বাচবে।
অন্যদিকে,চর মারার শব্দে সিমি দাঁড়িয়ে গেলো।চলে যাচ্ছিলো সে,কিন্ত দড়জা পর্যন্ত যাওয়ার পর আর যেতে পারলো না সে।কেউ তার কলিজায় আঘাত করেছে।চরের শব্দটা সিমিকে বিনা কষ্টে আটকিয়ে দিলো,যেখানে ইমতিয়াজ সাহেব রীতিমতো যুদ্ধ করেও তাকে আটকাতে পারলো না।সব ঠিকই ছিলো,চর মারার পরেও সে শান্ত ছিলো কিন্ত ইমতিয়াজ সাহেবের ছোটলোকের বাচ্চা গালিটা সিমির কান পর্যন্ত পৌছানোর সাথে সাথেই মস্তিষ্ক গরম হয়ে গেলো।নিজের সামনে নিজের ভালোবাসার মানুষের অপমান কেউই মেনে নিতে পারে না।
সিমি দরজা পর্যন্ত গিয়ে আর যেতে পারে নি।দাঁড়িয়ে গেছিলো।ইমতিয়াজ সাহেব এখনো সিমির দিকে তাকিয়ে আছে।মুখটা হালকা হা করে আছে।কিন্ত সিমির মাথায় চলছে অন্যকিছু। কেউ শাওনকে ছোটলোকের বাচ্চা বলে গালি দিছে।ছোটলোকের বাচ্চা শব্দটা বার বার সিমির কানে বাজছে।মনে হচ্ছে যেন ওর মস্তিষ্ক দুনিয়ার সমস্ত হিসাব নিকাশ বাদ দিয়ে ছোটলোকের বাচ্চা শব্দটা ওর কানে বার বার প্রতিধ্বনিত করার চাকরি নিয়েছে।
সিমি ধীরে এগিয়ে আসছে ইমতিয়াজ সাহেবের দিকে।তার দুই চোখ রক্তলাল হয়ে আছে।যদিও একটু আগে কান্না করেছিলো সে।কান্না করার ফলেও চোখ লাল হতে পারে।কিন্ত কান্নার চোখ লাল আর রাগের চোখলালের মাঝে বিস্তর ফারাক।ইমতিয়াজ সাহেব শাওনকে চর মারার সময় প্রচন্ড উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো।এখনো দাঁড়িয়ে হা করে তাকিয়ে আছে সিমির দিকে।সিমি হেটে হেটে ইমতিয়াজ সাহেবের একেবারে সামনে এসে দাড়ালো।সিমির রক্তলাল চোখ দেখে কিছুটা ভড়কে গেলো সে।কিছুটা শাস নিলো সিমি।তারপর শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো,,
----ওকে চড় কেন মারলি?আর ছোটলোকের বাচ্চা বলে গালি দিলি কোন সাহসে?
জীবনে এর থেকে বড় শক বোধয় ইমতিয়াজ সাহেব কখনো খান নি।দুই চোখ বড় বড় করে চশমার ফাক দিয়ে সিমিকে দেখছেন তিনি।সবই তার চোখের সামনে হচ্ছে।এমন না যে তিনি সপ্ন দেখছেন।তাইলে তিনি কেন বুঝতে পারছেন না কি হচ্ছে এখানে।এটা তো সেই সিমি যে শত অপরাধ করলে যে কাউকে হাসি মুখে ক্ষমা করে দেয়।নম্রতা ভদ্রতার কারণে পুরো ভার্সিটিতে বিশেষ সুনাম যার।যে কখনো এই ইমতিয়াজ কে তুমি ছাড়া অন্য কিছু বলে সম্বোধন করে নি,আজ সামান্য একটা ওয়েটারকে চর মারায় সে তুই বলে সম্বোধন করছে।তাও প্রচন্ড উদ্ভট ভাষায়।অবাকের সপ্তম আকাশে ইমতিয়াজ সাহেব।দ্বীতিয় বারের মতো চশমাটা ঠিক করে নিলো সে।ইমতিয়াজ সাহেবের এই অবাক হওয়া সিমিকে বিন্দুমাত্র ভাবান্তর করলো না।আগের মতো কঠোর ভাষায় আবার জিজ্ঞেস করলো,
----আমি তোকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি।হাবার মত তাকিয়ে থাকতে বলিনি...?
#চলবে

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন