গল্পঃমিথ্যা অপবাদ পার্টঃ৫ লেখকঃশাওন শিকদার

 গল্পঃমিথ্যা অপবাদ

পার্টঃ৫
লেখকঃশাওন শিকদার


(চাচি আমাকে ছাড়ছিল না।আমায় জড়িয়ে ধরেছিল।চাচার চোখটাও ছলছল করছিল।এমন সময় চাচা আবার বলে উঠলো.....) 

চাচাঃসালমা ও সকাল থেকে কিছু খায় নি।ওকে আগে খাবার খাইয়ে দাও।(বলে চাচা চলে গেল।)

(চাচা চলে যাওয়ার পর চাচি উঠে বসল....তারপর বলল....)

চাচিঃনে বাবা খেয়ে নে সকাল থেকে কিছু খাস নি।না খেলে শরীর খারাপ করবে।

আমিঃনা চাচি খেতে মনে চায় না।

চাচিঃশাওন বড়দের কথা সুনতে হয়।আমি তো তোর মায়ের মত.....না আজ থেকে আমিই তোর মা।এখন মা তোমায় খেতে বলছি খেয়ে নাও।

(মায়ের কথা শুনে বুকটা মোচর দিয়ে উঠলো। আজ আমার মা থাকলেও এভাবেই খাইয়ে দিত।আমার চোখে পানি চলে আসলো।আমার চোখে পানি দেখে চাচি.....না এখন তো আমার মা।মা বলে উঠলো.......) 

মাঃখেয়ে নে বাবা।তোর এক মা তাড়িয়ে দিয়েছে তো কি হয়েছে তোর আরেক মা তো আছে।

(আমি আর কথা বলতে পারলাম না।যেখানে আপন মানুষেরা সবাই পর করে তাড়িয়ে দিল।সেখানে পর মানুষেরা আপন করে নিল।আমি আর কথা বললাম না।বাধ্য ছেলের মত খেয়ে নিলাম।খাওয়ার মধ্যে কোন করা কথা বললাম না। মা মাঝে মাঝে আমায় সান্তনা দিয়েছিল।ভাবতেই অবাক লাগে মাত্র একটা দিনের ভেতর কত আপন করে নিল আমায়।খাওয়া শেষ হওয়া পর মা বলল.....)

মাঃবাবা এইবার ঘুমিয়ে পর।
(আমিও বাধ্য ছেলের মত শুয়ে পরলাম।উনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো। আমি ঘুমানো পর্যন্ত উনি আমার পাশে বসে আমার মাথায় হাত বুলাচ্ছিলেন।)

(সকালে পাখির কিচির মিচির শব্দে ঘুম ভাংলো।জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আমি তো অবাক হয়ে গেলাম।ছোট খাট একটা বাগান আছে আমার জানালার পাশে।ঢাকার শহরে তো আজকাল বাগান বাড়ি নাই বললেই চলে।আমি উঠে রুমের বাইরে গেলাম।দেখলাম মা সকালের নাশতা রেডি করছে।আমাকে দেখেই একটু মিস্টি হাসি দিয়ে বললো......)

মাঃকি খবর তুমি উঠে গেছ।আমি এখুনি যাচ্ছিলাম তোমায় জাগাতে।তোমার রুমেই ওয়াসরুম আছে যাও ফ্রেস হয়ে আসো।



(আমি রুমে এসে ফ্রেস হয়ে নাসতা করতে গেলাম।সবাই মিলে বসে খাচ্ছিলাম।হটাৎ চাচা বলে উঠলো......) 

চাচাঃশাওন তোমার পরালেখার কি অবস্থা....?

মা(চাচি)ঃআহ কী হচ্ছে ছেলেটা কালকে মাত্র আসলো.... ওকে কিছুদিন সময় দাও তারপর না হয় এসব কথা বল।

চাচাঃনা সালমা তুমি বুঝতে পারছো না।জীবনে এমন অনেক ঝর আসবে জাবে তাই বলে চুপ করে থাকাটা উচিত নয়।যত দিন চুপ করে থাকবে তত দিন জীবন থেকে পিছিয়ে পরবে।

আমিঃনা চাচা আমার কোন সমস্যা নেই।আসলে এক মাস আগেই আমার hsc পরীক্ষার রেজাল্ট দিছে।রেজাল্ট মোটামুটি ভালোই।

চাচাঃও তাহলে তো ভালোই।আমার বন্দুর একটা প্রাইভেট ভার্সিটি আছে।অনেক ভাল ভার্সিটি। আমি চাই তুমি সেখানেই ভর্তি হও।তুমি কি বল।

(আমি অবাক হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম।উনি আমায় কত দিন চিনে।একদিন হয় নি ভালো করে।একদিনে কত আপন করে নিলেন আমায়।একদম নিজের ছেলের মত করে খেয়াল রাখছেন আমার।আমার চোখে পানি এসে গেল।মানুষ এত ভালো হয় কি করে সেটা আমি ভেবে পাই না।চাচা আবার বলে উঠলো......) 
চাচাঃশাওন তুমি ঠিক আছো....?

আমিঃহ হ হ হ্যা চাচা।আপনি যেখানে চান আমি সেখনেই ভর্তি হব।

চাচা ঃতাহলে তো হয়েই গেল।আমি আজই তোমায় ভর্তি করিয়ে দিব।সামনের মাস থেকে ক্লাস সুরু।

আমিঃআচ্ছা।



(((((((((((১ মাস পর))))))))))))

আমিঃমা আমায় তারাতারি খেতে দাও।আজ আমার ভার্সিটির প্রথম দিন।

মাঃদারা বাবা আর মাত্র পাচটা মিনিট।সব রেডি করা হয়ে গেছে।

বাবাঃ কী হল আজ....আমার ছেলেটাকে আজ খুব খুশি খুশি লাগছে....

আমিঃধূর বাবা তুমিও ভুলে গেলে।আজ আমার ভার্সিটির প্রথম দিন।

বাবাঃনা না আজ আমার ছেলের ভার্সিটির প্রথম দিন সেটা কি আমি ভুলতে পারি।তুমি খাওয়া দাওয়া সেস কর তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।

আমিঃআচ্ছা
.

(ও আপনাদের তো বলাই হয় নি আমি এখন চাচা কে বাবা বলে ডাকি।আর মা বাবার সাথে আমি অনেকটাই ফ্রী হয়ে গেছি।ওনারাও আমায় অনেক ভালোবাসেন।কেউ না জানলে কখনো বুঝতেই পারবে না আমি উনাদের আসোল ছেলে না।এর মধ্যে মা চলে আসলো।)

মাঃনে বাবা তারাতারি খেয়ে নে।

(আমি, বাবা আর মা একসাথে খেয়ে নিলাম।তারপর মা আর বাবা আমায় এগিয়ে দেওয়ার জন্য বাইরে আসলেন।কিন্ত হঠাৎ মা পেছন থেকে আমার দুই চোখ চেপে ধরলো।)

আমিঃআহ মা কি হচ্ছে...??আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।

বাবাঃকোন কথা নেই।বলেছিলাম না তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। 

আমি ঃআচ্ছা (মা আমাকে কিছুদুর নিয়ে চোখটা ছেরে দিল।চোখ খুলে আমি যা দেখলাম আমি সত্যিই সারপ্রাইজড হয়ে গেলাম)



চলবে




মন্তব্যসমূহ