গল্পঃমিথ্যা অপবাদ পার্ট: নয় লেখক :শাওন সিকদার

 গল্পঃমিথ্যা অপবাদ

পার্ট: নয়
লেখক :শাওন সিকদার


,
,
,
আম্মু:তুমি মনে হয় ভুলে গেছ তোমার প্রিন্সিপাল তোমার আব্বুর বন্ধু হয়!উনি তোমার আব্বুকে সব বলেছেন কল করে...
.
.
আমি:ও
,
,
আম্মু:থাক বাবা সেসব কথা চিন্ত করে লাভ নেই!যা যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে!জীবনে এমন অনেক ঝড় আসবে যাবে তোমাকে কিন্ত শক্ত থাকতে হবে বাবা,,ভেঙে পরলে চলবে না!
.
.
আমি:হুমমম
,
,
আম্মু:আচ্ছা এখন খেতে আসো!
.
.
(((((((((((((((1 মাস পর))))))))))))))
.
.
(দেখতে দেখতে এক মাস কেটে গেল!আমি এখন আর নেহার কাছে গিয়ে ওকে বুঝানোর চেষ্টা করি না!আপনারা ভাবছেন আমি নেহাকে ভুলে গেছি!না রে ভাই জীবনের প্রথম ভালোবাসা ভুলা এত সহজ না!আমি নেহাকে এখনো আগের মতই ভালোবাসি!ওর প্রতি আমার ভালোবাসা একটুও কমে নি!শুধু ওকে এখনো বুঝনোর জন্য যাই না!আমি ওই দিনের ঘটানার পরও আরো অনেক দিন গেছিলাম নেহাকে বুঝানোর জন্য!কিন্ত প্রতিবারই চর মেরে তারিয়ে দিয়েছে!এখন আর চর খাওয়ার ইচ্ছা নেই!তাই ওকে বুঝানোর চেষ্টা করি না কিন্ত প্রতিদিন আমি পথের পাশে ওর জন্য দারিয়ে থাকি!ও যাওয়ার সময় ছল ছল করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি!হয়তো এবার ও আমার কথা শুনবে এই আশা টা বুকের ভিতর নিয়ে !!কিন্ত আমার আশা আমার আশাই থেকে যায় বাস্তব আর হয় না!ও প্রতিদিন আমায় না দেখার ভান করে চলে যায়!মাঝে মাঝে কয়েক মুহূর্তের জন্য দারিয়ে যায়!ছল ছল করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে!ওর চোখের দিকে তাকালে বুঝা যায় ও ঘুমায় না ভালো করে!হয়তো কান্নাও করে!চোখ দুটো ফুলা ফুলা থাকে!কিন্ত সেই কান্না কেউ দেখতে পায় না!কারণ ও খুব লাজুক সভাবের!ওর বুক ফাটলেও মুখ ফাটে না!ওর দিকে তাকালে আমার বুকের ভেতরটা হু হু করে!কত ভালোবাসত মেয়েটা আমায়!ওর কষ্ট দেখে আমার নিজেরি কষ্ট লাগে!সেই সাথে নিলা নামের মেয়েটার উপর জন্মে তীব্র ঘ্রীনা!ওর একটা ভুলের জন্য আজ কতগুলো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে!ও তো আমায় ভালোবাসত!এই ছিল ওর ভালোবাসার নমুনা.....??!আমার ওর কথা ভাবতেও ঘিন্না লাগে!নেহার কান্না মাখা মুখ আমার আর সহ্য হয় না!আমি যখনি ওকে কিছু বলতে যাব তখনি ওর চোখ মুখ বিশিয়ে ওঠে!তারাতারি স্থান ত্যাগ করে!এভাবেই চলছিল আমাদের জীবন!আমি শুধু মাত্র ওকে একবার দেখার জন্য প্রতিদিন ভার্সিটিতে যেতাম)
.
.
.
(আপনাদের সাথে অনেক কথা বলে ফেললাম কিন্ত আসোল কথাই বলা হয় নাই,,,,,আগামী পরশু অনিক এর বর বোনের বিয়ে,,আমি ব্যাপারটা নিয়ে অনেক চিন্তা করেছি কিন্ত কোন উপায় বের করতে পারছি না!কীভাবে যে ওদের সামনে না এসে থাকা যায়...?ভাবতে ভাবতে রাত প্রায় 12 টা বেজে গেছে !কিন্ত কোন উপায় খুজে পেলাম না!আপনারা ভাবছেন আমি যেই কয়দিন বিয়ে সেই কয়দিন অন্য যায়গায় গিয়ে থাকলেই তো হয়!সেটা আমিও ভেবেছি!কিন্ত মা(চাচি)থাকতে সেটা কখনোই সম্ভব না!এত দিনে উনি আমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসেন .....??উনি আমায় খুনক্ষরেও চোখের আরাল হতে দেন না!আমি ভার্সিটিতে গেলে উনি কমপক্ষে 50 বার কল দিয়ে খবর নেন!আসতে 5 মিনিট দেরি হলে শুরু হয় উনার কান্না!উনি সারাক্ষণ আমায় নিয়েই ব্যাস্ত থাকেন!আমি যদিও বিয়ের কয়দিন বাইরে থাকতে চাই সেটা উনার জন্য সম্ভব হবে না! কিন্ত আমাকে তো একটা উপায় বের করতেই হবে! উনারা কয়দিন থাকবেন আমি এখনো সেটাই জানি না!এটা না জানলে আমি উপায় বের করব কীভাবে...??না আগে অনিক এর কাছে কল করে উনারা কয়দিন থাকে সেটা জানতে হবে.....অনিক কে ফোন দিলাম...কয়েকবার বাজার পর রিসিভ করলো.....)
.
.
আমি: হ্যালো অনিক....
.
.
অনিক: হুম কিরে এত রাতে ফোন দিয়েছিস কেন...?কোন প্রবলেম ...?
.
.
আমি: না মানে খবর টা জানতে পেরেছিস....?
.
.
অনিক: কোন খবর..??
.
.
আমি:ওই যে আব্বু আম্মু কয়দিন থাকবে সেটা...
.
.
অনিক:আরে সালার তুই এত রাতে ঘুম রেখে উনারা কয়দিন থাকবে সেটা চিন্ত করছিস...?
.
.
আমি: আরে ধূড় তুই বলত..
.
.
অনিক:তোর আব্বুর আর আমার আব্বুর কথা হয়েছিল শুনতে পেলাম!আমার আব্বু তোর আব্বুকে বলেছিল কয়েকদিন থাকার জন্য কিন্ত তোর আব্বু তো থাকবেই না অনেক কষ্টে একদিন থাকার জন্য রাজি করাল!শুধু মাত্র বিয়ের দিন সকালে আসবে খাওয়া দাওয়া করে বিকালে চলে যাবে....
.
.
আমি:শুধুমাত্র একদিনের জন্য এত দূরে আসবে...?তারচেয়ে না আসলেই পারত...
.
.
অনিক:উনি তো আসতেই চাচ্ছিল না!কিন্ত আমার আব্বুর জোরাজুরিতেই রাজি হলো!ও হ্যা আর একটা কথা বলার ছিল..
.
.
আমি:বল
,
,
অনিক:গত কালকে তোর আব্বু আমায় তোদের বারি ডেকেছিল...আমি যাওয়ার পরে দেখি বাসায় কেউ নেই!সুধু তোর আব্বু আর আম্মু বসে আছে আমি যাওয়ার পর তোর ব্যাপারে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলো তুই কই আছিস.?কেমন আছিস.?ভালো আছিস কিনা.?তোর সাথে আমার যোগাযোগ আছে কিনা.?এই আরকি,,
,
,
আমি:তুই কি বলেছিস..?
.
.
অনিক:আমি বলেছি তোর ব্যাপারে আমি কিচ্ছু জানি না!তোর সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই!
.
.
আমি:ভালো করেছিস!
.
.
অনিক:তবে একটা কথা...
.
.
আমি:কী...?
.
.
অনিক:উনাদের দেখে মনে হল উনারা কেউ ভালো নেই!আন্টির চোখ গুলা কেমন লাল লাল দেখাচ্ছিল!মনে হয় তোর কথা মনে করে উনার রাতে ঘুম হয় না!উনাদের কেমন জানি মনে হচ্ছিল!উনাদের দেখে আমারই মন খারাপ হয়েছিল!আমার মনে হয় কী জানিস উনারা তোকে ক্ষমা করে দিয়েছে...তুই ফিরে এলে উনারা তোকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না..উনারা তোকে ক্ষমা করে দিবে!
.
.
আমি:না রে দোস্ত এটা হয় না!আমি জানি আমার বাবা মা আমার উপর রাগ করে বেসিদিন থাকতে পারবে না!আমি গেলে উনারা হয়তো আমাকে ক্ষমা করে দিবেন!কিন্ত আমি উনাদের সামনে কি মুখ নিয়ে যাব ভেবে দেখেছিস..??উনারা হয়তো আমায় ক্ষমা করে দিবেন!কিন্ত সারাজীবন ধর্ষক নামের একটা মিথ্যা অপবাদ মাথায় নিয়ে বাচতে হবে!আমি কখনো পারবো উনাদের সামনে মুখ উচু করে কথা বলতে...?বরং আমার জন্য উনাদের পারা প্রতিবেশিদের কথা শুনতে হবে!আর বসির চাচ্চু !!!উনাকে আমি কি করে মুখ দেখাব...?উনি তো আমায় নিজের ছেলের মত ভালোবাসতেন!আমার বাবার থেকে উনি আমায় বেশি সময় দিতেন.সেই লোকটা কী পারবে আমায় ক্ষমা করতে..?কখনোই না!যতদিন না সত্যটা উন্মোচিত হচ্ছে ততদিন কেউ আমায় বিশ্বআস করবে না!এই সমাজে নারীরা যতই অবলা আবার ততই শক্তিশালী !আর এই কথাটার ভয়ংকর সত্য উদাহরন হল নিলা!আমার জীবনটাকে পুরো তচনচ করে দিয়েছে!
.
.
অনিক:আচ্ছা ভাই তুই যা ভালোবুজিস তাই কর!অনেক রাত হয়ে গেছে এখন ঘুমা!
.
.
আমি:আচ্ছা রাখ!
.
.
(ফোনটা রেখে দিলাম!মা বাবার কথা মনে পরে মনটা খারাপ হয়ে গেল!কত ভালোবাসতেন উনারা আমাকে যদিও চাচি আমায় অনেক ভালোবাসে কিন্ত নিজের আপন মায়ের ভালোবাসার সাথে কারো ভালোবাসার তুলনা হয় না!তবে এটা ভেবে ভাল লাগলো যে উনারা এখন আমায় ফিরে পেতে চাইছেন!কিন্ত এখনি আমি উনাদের সামনে যাব না!আমি একদিন প্রমান করেই ছারব যে আমি কো দোষ করি নি!আর যেদিন এই দিনটা আসবে সেদিন আমি সসম্মানে আবার নিজের বারি চলে যাব!!সে দিনটার কথা মনে পরলেই নিজের ভেতর একটা ভালোলাগা কাজ করছে!কিন্ত তার আগে আমায় কাল তাদের থেকে দূরে কোথাও যেতে হবে!একদিনেরিতো ব্যাপার মা(চাচি) হয়তো না করবে না!এখন রাত প্রায় 1টা। বাজে এখন ঘুমিয়ে পরি!সকালে ব্রেকফাস্ট করার সময় নাহয় বলা যাবে...)
,
,
(পরের দিন সকালে মায়ের ডাকেই ঘুম ভাংল!মা আমাকে ডেকে ব্রেকফাস্ট বানাতে গেল!আমি ফ্রেস হয়ে গিয়ে দেখি উনারা খবার নিয়ে আমার জন্য বসে আছেন!আমিও উনাদের সাথে খেতে বসলাম!আমার এখনি বিষয়টা আলোচনা করা উচিত!আমি বললাম.....)
.
,
আমি:বাবা আমার একটা কথা বলার ছিল....
.
(বাবা মা দুজনেই খাবার রেখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন!উনারা একটু অবাকই হলেন!কারন আমি সচরাচত তেমন কথা বলি না!আর এমন ভাবে খাওয়ার টেবিলে তো নাই!কিন্ত আজকের বিষয়টা সিরিয়াস তাই বলতে হচ্ছে !)
.
বাবা:হ্যা বল বাবা কি বলতে চাও..
.
.
আমি:আগামীকাল তো অনিক এর বর আপুর বিয়ে এই বারিতে.তাই না..
.
.
.
বাবা:হ্যা কিন্ত কেন...?
.
.
আমি:আসলে কালকের বিয়েতে আমার বাবা মা ও আসবে...আর আমি চাই না উনাদের সামনে যেতে!
.
.
(বাবা(চাচা)মা(চাচী) দুজনেই আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন)
.
.
বাবা:তা তুমি এখন কী করতে চাও...?
.
.
আমি:আমি চাচ্ছি আগামীকাল টা বাইরে কাটাতে...?
.
.
মা: না !!!দেখ বাবা তুমি এখনে এসেছ মাত্র দুই মাস হয়েছে!তুমি এখনো ঢাকার শহর ভালো করে চিন না!তোমার বাইরে যাওয়ার দরকার নেই..
.
.
আমি:কিন্ত মা আমি উনাদের সামনে যেতে চাই না!আর এখনে থাকলে তো উনাদের সামনে যেতে হবে!উনারা আমায় দেখলে উনাদের বিয়ের আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে.!
.
.
মা:দেখ তুমি যদি উনাদের সামনে না যেতে চাও তাহলে আমাদের ছাদে যে স্টোর রুমটা আছে সেটায় থেক!তবুও বাইরে যেতে পারবে না!একটু পরে বারি ডেকরেশন করার জন্য লোকজন আসবে!আমি তাদের বলে ব্যাবস্থা করে রাখবো যাতে কেউ সেদিকে না যেতে পারে!আর আমি দুপুরবেলা গিয়ে তোমায় খাবার খাইয়ে দিয়ে আসবো!উনারা বিকালের দিকে চলে গেলে তখন তুমি বাইরে এসো...
...
.
আমি:কিন্ত মা...
.
.
মা:আমি কোন কিন্ত শুনতে চাই না!
.
.
(মায়েত চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে!হয়তো উনি আমাকে হারানোর ভায় পাচ্ছেন!করার কিছু নেই!মা যা বলেছে তাই করতে হবে!বাবাও তার উপরে কথা বলতে পারবে না!এই কয়দিনে আমি এটা ভালোই বুঝতে পেরেছি!কিন্ত মা এটা কেন বুঝতে পারছে না বিয়ে বারিতে কে কখন কোথায় যায় তার কোন ঠিক নেই!আমি যে কোন সময় ধরা পরে যেতে পারি আর সেটা আমি স্বপ্নেও চাই না!আমি অসহায় ভাবে বাবার দিকে তাকিয়ে রইলাম...বাবা বলল,,,)
.
.
বাবা:দেখ বাবা সালমা যখন যেদ ধরেছে তুমি এখানে থাকবা সেখানে আমার কিছু বলার নেই!তারচেয়ে তুমি এখানেই থাক আমি বরং মানুষ রেখে দিব স্টোর রুমের সামনে যাতে ওখানে কেউ যেতে না পারে!
.
.
আমি:আচ্ছা !
,
(পরের দিন সকাল ভোরে)
.
.
(আমি খুব ভোরে উঠে স্টোর রুমে চলে আসলাম!এখনো খুব ভোর!বিয়ে বারি তাই দুই একজন মানুষ দেখা যাচ্ছে!কিন্ত মানুষের সমাগম একদম নেই বললেই চলে!আমি যে ভয়টা পেয়েছিলাম এখাএ এসে সে ভয়টা কমে গেছে!রুমটা খুব ভালোভাবেই আড়াল করা হয়েছে!রুমে অনেক আবর্জনা ছিল!মা কাল মানুষ দিয়ে সেগুলো পরিষ্কার করিয়েছে!এত আবর্জনা কই রেখেছে সেটা তিনিই ভালো জানেন!রুমের ভেতর একটা টিভি র ও ব্যাবস্থা করা হয়েছে!চারপাশে ডেকোরেশন করা হয়েছে বাইরে থেকে দেখলে বুঝাই জাবে না ভেতরে একটা রুম আছে!যাক,ভালোই হলো আজকের দিনটা ভালোভাবেই কেটে যাবে!এমন সময় আম্মু আসলো রুমে...)
.
.
.
.
.
চলবে.....

মন্তব্যসমূহ