গল্পের নামঃজীবন গল্পের লেখকঃশাওন সিকদার

 গল্পের নামঃজীবন

গল্পের লেখকঃশাওন সিকদার



---নাম কী?

---রাইশা

---বাবার নাম?

---আবির আদনান

---মায়ের নাম?

---সেটাও বলতে হবে?


একবার তাকালাম মহিলার দিকে।হালকা হাসি দিলাম।এই মূহুর্তে হাসি ছাড়া কোন উত্তর নেই।


কিছুক্ষন পর.....


---ওকে,কাল থেকে ক্লাশে জয়েন করতে পারবে।প্রথম শ্রেণী,রোল ৪৫

---আচ্ছা আসি।

---চলে যাচ্ছেন?


মহিলাটি ফিরে তাকালো.. 


---কিছু বলবেন?

---মেয়ের বাবা আসে নাই?

---উনি ব্যাস্ত থাকে সারাদিন।সময় পায় না।

---এখনো কি ব্যাংকে চাকরি করে?

---নাহ,,বিয়ের কয়েক বছর পর বিসিএস দিয়েছিলো।প্রশাসন ক্যাডারে আছে।

---কিন্ত মেয়ের নাম রাইশা রাখলেন যে?


অদ্ভুত ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকালো।তারপর হালকা হাসি দিয়ে বললো


---কেন?কোন সমস্যা?

---১০ বছর আগে কোন বেকারকে দেওয়া কথা মনে রেখেছেন?

---এইটুকুতো করতেই পারি।


খুব জোর হাসি পাচ্ছে আমার।হাসি আটকে জিজ্ঞেস করলাম....


---আরো তো প্রাইমারী স্কুল আছে।মেয়েকে এইখানেই ভর্তি করালেন যে?


মুচকি হেসে বললো


---একজন ভালোমানুষের কাছে দিয়ে গেলাম,যাতে মেয়েটাও ভালোমানুষ হয়।


এবার আর হাসি আটকাতে পারলামনা


---তো ভালোমানুষকে ছেড়ে গেলেন কেনো?


এতক্ষনের মুচকি হাসি মাখা মুখটা নিমিষে কালো হয়ে গেলো।ছলছল চোখে বললো....


---আমি বাধ্য ছিলাম।


বলেই হনহন করে মেয়েকে নিয়ে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে গেলো।আমি তাকিয়ে আছি চলে যাওয়ার দিকে।আটকানোর ক্ষমতা নেই।আজ অনেকদিন পর আবার আসলামের কথা মনে পড়লো।এখনো নাম্বারটা সেইভ করা আছে।আসলামকে ফোন লাগালাম।


---আসলাম?

---আরে মামা বলেন!এতদিন পর হঠাৎ কি মনে করে!?

---আজকে রাতে দুইস্টিক মাল রাখিছ।আর শোন চেক কইরা রাখিস পিনিক হয় যাতে।

---ব্যাপার কি মামা এত বছর পর আবার?

---আমি ৮ টায় আসুম।রাখ এখন।


প্রতিদিন মা বিয়ের জন্য অনেক কথা বলে।আজ বলতে পারবেনা।কারণ আজকে রাতে আর বাড়ি ফিরবো কিনা জানিনা।বাইরে অভিভাবকরা সন্তান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আমি আবার কাজে মন দিলাম।জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।কিন্ত অনুভূতি গুলো কখনো মারা যায় না।আমার মতো হাজারো মানুষের অনুভূতি রাতের বেলা আসলামদের গাজার আসরে প্রকাশ পায়।কিন্ত মজার ব্যাপার এই প্রকাশিত অনুভূতি আসলামদের আসরেই আসরেই সীমাবদ্ধ থাকে।কখনো বাইরে বেরোনর সুযোগ পায়না।



#সমাপ্ত



মন্তব্যসমূহ